Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিনা পুঁজিতে উদ্যোক্তা হবেন?

More Share, More Care!

বর্তমানে তরুন-তরুণীদের মাঝে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিন্তু একজন সফল উদ্যোক্তা কজনই বা হতে পারে? ঠিকমত পরিকল্পনা এবং পরামর্শদাতার অভাবে ৯০% উদ্যক্তারাই ঝড়ে পরে যায়। কিন্তু যদি এমন হয় যে আপনাকে একজন কোনো অর্থ ছাড়াই উদ্যোক্তা বানানোর জন্য সব ধরনের সাহায্য করছে, তাও আবার যে কোনো সময়ে! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো সেই অতীব প্রয়োজনীয় পরামর্শদাতা।

সম্প্রতি ভারতের দুই বন্ধু পনের হাজার টাকা বিনিয়োগ করে চ্যাট জিপিটির মাধ্যমে এক কোটি টাকা লাভ করেছে। এই কথা মোটামুটি আমাদের সবার জানা। আবার কিছুদিন আগে একজন লেখক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে বই লিখে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন এই খবরও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমাদের মাঝে অনেকের মধ্যে নানা প্রশ্ন বা দ্বিধা সংশয় উকি দিচ্ছে,  আসলেই কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব? তাও আবার বিনা পুঁজিতে? একবিংশ শতাব্দীতে সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী আবিষ্কার হলো AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে কাজে লাগিয়ে আপনি খুব সহজে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন তাও আবার বিনা পুঁজিতে।  তাই যারা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলে আইডিয়া দেয়া হবে কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হতে পারবেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI কি?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কে ইংরেজীতে  বলা হয় Artificial Intelligence. মানুষের চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে রুপান্তর করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি,  গুগল বার্ড বেশ জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ( AI) টুল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মত করে যে কোনো বিষয় বিশ্লেষন করতে পারে, যে কোনো প্রশ্ন করলে ন্যানো সেকেন্ড থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উত্তর পাওয়া যায়, জটিল জটিল অংক সমাধান করা যায় এছাড়াও যে কোনো ধরনের সমস্যা বললে সে বিষয়ে মানুষের মতই পরামর্শ দিতে সক্ষম। বিশেষ ক্ষেত্রে মানুষের থেকেও অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এর ফলে মানুষ এখন শিক্ষা, ব্যবসা এবং যে কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান চালানোর কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে থাকছে।

কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে বিনা পুঁজিতে উদ্যোক্তা হওয়া যায়?  

সফল  একজন উদ্যোক্তা হতে হলে প্রয়োজন  সঠিক পণ্য বাছাই, গবেষনা করা, মার্কেটিং আইডিয়া বা পরিকল্পনা এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজন গাইডলাইন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সবার বিজনেস এডভাইজার এর কাছ থেকে এডভাইজ নেয়ার মত অর্থ থাকেনা। যার ফলে সঠিক গাইডলাইনের অভাবে মাঝপথে থেমে যেতে হয়। তাই আজকের এই আর্টিকেলে  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সফল  উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল আইডিয়া পেয়ে যাবেন। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে কাজে লাগিয়ে নিজেকে  সফল একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করবেন-

১. ব্যবসার ক্ষেত্র অনুসন্ধান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সফল একজন উদ্যোক্তা হতে প্রথমেই প্রয়োজন কি নিয়ে/কোন পণ্য নিয়ে কাজ করতে চান সেটি অনুসন্ধান করা। কোন পণ্য আপনি বাছাই করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি  হবে  এসব ক্ষেত্রে  আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাট জিপিটি/গুগল বার্ডকে যদি  আপনার মধ্যে থাকা দক্ষতা, কোন কাজ করতে ভালো লাগে বা কোন কাজে আপনার প্যাশন  এরকম কিছু তথ্য দেন, তাহলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনার মধ্যে থাকা যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবসার ক্ষেত্র অনুসন্ধান করে দেবে। অর্থাৎ কোন ধরনের পণ্য বাছাই করলে আপনি খুব সহজে ব্যবসা দাড় করাতে পারবেন এরকম কিছু পণ্য বা উপায় আপনাকে বেছে নিতে সাহায্য করবে। এই কাজের জন্য আরেকটি সেরা AI টুল হলঃ VENTURAS

২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্যোক্তাদের পণ্য বাছাই করতে সাহায্য করে  

কোন পণ্য নিয়ে কাজ করবে উদ্যোক্তারা এ নিয়ে  অনেক সময় দ্বিধায় পরে যান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছ থেকে বাছাই করা কয়েকটি পণ্য থেকে একটি পণ্য আপনাকে বেছে নিতে হবে। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না কোন পণ্যটি নিয়ে কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি (AI) কে যদি আপনার স্থানে বা আশেপাশে কোন ধরনের মানুষ বসবাস করেন, আপনার আশেপাশের উদ্যক্তারা কি নিয়ে কাজ করছে এবং আপনি কত টাকা দিয়ে শুরু করতে চান এরকম কিছু তথ্য দিলে  চ্যাটজিপিটি সেই অনুযায়ী একটি পণ্য বাছাই করে দিবে, এবং কিভাবে অন্যদের থেকে আপনি আলাদা ভাবে নিজের পণ্যকে তুলে ধরতে পারবেন এরকম নানাবিধ পরামর্শ ফ্রিতে পাবেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)  ব্যবহার করে। এসব কাজে SEMRUS  এই টুলটি ব্যবহার করতে পারেন।

৩. ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা

কোনো কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসার লক্ষ্য স্থির করা। আপনি যদি ব্যবসা শুরু করতে চান প্রথমেই আপনাকে এর লাভ এবং ক্ষতি সম্পর্কে একটি ধারনা নিতে হবে। অর্থাৎ লাভ হলে কি পরিমাণ হতে পারে এবং লভ্যাংশ দিয়ে কি করবেন সেই পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিটি ব্যবসা শুরু করার আগে লভ্যাংশের কথা চিন্তা করার পাশাপাশি ক্ষতির কথাও ভাবতে হবে, এবং ক্ষতি হলে কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন সেটাও ভেবে রাখতে হবে। আপনার ব্যবসার এ রকম সব ধরনের দ্বিধা অবসান ঘটাতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

৪. অর্থ যোগানোর ক্ষেত্র অনুসন্ধান

নতুন ব্যবসার জন্য ফান্ডিং খুঁজে পাওয়া এক দুরূহ কাজ । কিন্তু চিন্তার কোন কারন নেই,  কারন আপনার পাশে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। PitchBook প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করে সঠিক ইনভেস্টর খুঁজে বের করতে Jasper-এর মতো AI টুল ব্যাবহার করুন। Indiegogo-এর মতো ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মে আপনার বিজনেস এর জন্য বিনিয়োগকারী খুজতে AI টুল গুলির সাহায্য নিন। চ্যাটবটগুলি আপনার বিজনেস এর বর্তমান অবস্থা অনুসারে কিভাবে এইসব প্ল্যাটফর্মে ফান্ড পাওয়া যায় সেই সম্পর্কে পরামর্শ দিবে। এই সার্ভিসগুলি কোনো বিজনেস মেন্টরের কাছে পেতে হয়ত আপনার হাজার হাজার টাকা ও অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতো, যা আপনি এ আই এর কল্যাণে ফ্রিতে পাবেন।

৫. ব্যবসার সঠিক সহযোগী বাছাই

প্রতিটি ব্যবসায় কমবেশি সহযোগী বা কর্মী  প্রয়োজন পরে। আপনার কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সাহায্য নিতে পারেন। আপনার ব্যবসার ধরন অনুযায়ী কোন ধরনের সহযোগী বাছাই করবেন, কি ধরনের দক্ষতা লাগবে,  এবং সে সকল দক্ষতা যাচাই করার জন্য যে প্রশ্ন করা প্রয়োজন সব কিছুই আপনার হয়ে করে দিবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

৬. ব্যবসার জন্য ইউনিক নাম এবং পেইজ ডিজাইন

ডিজিটাল যুগে এখন সব ধরনের ব্যবসা অনলাইন কেন্দ্রিক। অফলাইন কেন্দ্রিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও ব্যবসা বা পণ্যের প্রচার বা প্রসার ঘটানোর জন্য ফেইসবুক পেইজ/ ওয়েবসাইট দরকার হয়। অনলাইনে আপনার পণ্য নিয়ে সকল ধরনের পোষ্ট করতে পারবেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে। যে পণ্য নিয়ে পোষ্ট করতে চান সেটার বিবরন দিলেই বিভিন্ন ধরনের পোষ্ট লিখে দিবে, যেগুলো দিয়ে আপনি খুব সহজেই সবার থেকে ইউনিক ভাবে আপনার গ্রাহকের নজর কাড়তে পারবেন।  এছাড়াও ZOHO CREATOR, WIX ADI দিয়ে বিজনেস এপ ও ওয়েবসাইট বানাতে পারেন।

৭. পণ্য মার্কেটিং করার কৌশল

সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সবচেয়ে বড় কৌশল হচ্ছে পণ্য ঠিকভাবে মার্কেটিং করতে পারা। আপনার পণ্য যত সুন্দর এবং আকর্ষনীয় ভাবে মার্কেটিং করতে পারবেন, আপনি বাজারে অন্যদের তুলনায় ততো বেশি এগিয়ে থাকবেন। এতে করে গ্রাহকের কাছ থেকে বিশেষ আস্থাও অর্জন করতে পারবেন। তাই আপনার পণ্য ইউনিক উপায়ে মার্কেটিং করতে সাহায্য করতে আপনার পণ্যের ব্যপারে দুই একটি তথ্য দিলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পেয়ে যাবেন শত শত ইউনিক আইডিয়া।

৮. লাইসেন্স/ প্রয়োজনীয় পেপার্স তৈরি

ব্যবসার শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের পেপার্স তৈরি করতে হয়। অনেক সময় ইমেইল অথবা আপ্লিকেশন করতে হয়। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না আপ্লিকেশনে কি লিখবেন বা  কি লিখে মেইল করবেন। সেক্ষেত্রেও সাহায্য নিতে পারেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। আপ্লিকেশন বা মেইলের সাবজেক্ট দিলে আপনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি স্ট্যান্ডার্ড মেইল পেয়ে যাবেন। যেটা আপনি অনায়াসে সবখানে ব্যবহার করতে পারবেন।

শেষ কথা | বিনা পুঁজিতে উদ্যোক্তা

উদ্যোক্তা হতে প্রয়োজন সঠিক গাইড লাইনের। আপনি যদি প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে আপনার উদ্যোক্তা জীবনকে সফল করতে সক্ষম হবেন। সেক্ষেত্রে জানতে হবে ব্যবহারের কৌশল। একটি ব্যবসা শুরু করার জন্য পণ্য কেনা ছাড়াও শুধুমাত্র পরামর্শ নেয়ার জন্য অনেক অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়, বাড়তি টাকা তো আছেই। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদৌলতে আপনার সময় এবং অর্থ দুটোই বাঁচিয়ে হতে পারেন সফল একজন উদ্যোক্তা। হতে পারে আপনার নামও একদিন কোনো দেশের পেপার পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলে উঠবে সফল একজন উদ্যোক্তা হিসেবে!

ধারাবাহিক প্রশ্ন উত্তর – FAQ

১। উদ্যোক্তাদের জন্য সেরা ৫ টি AI টুল?

  • CHATGPT, Gimini(Bard): ব্যবসার ক্ষেত্র অনুসন্ধান, ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা ইত্যাদি কাজে।  
  • ORANGE: ব্যবসার ডেটা বিশ্লেষণ ও প্রসেসিং করতে।
  • WIX ADI: ওয়েবসাইট তৈরি করতে।
  • Prezo.ai: বিজনেস ডকুমেন্ট ও presentation তৈরি করতে।
  • LOOKA: ব্যবসার লোগো, ব্যানার যাবতীয় গ্রাফিক্স এর কাজ করতে।

২। চ্যাটজিপিটি কিভাবে উদ্যোক্তাদের সাহায্য করতে পারে?

উদ্যক্তাদের জন্য চ্যাটজিপিটি এক নতুন সম্ভাবনা দুয়ার খুলেছে। এটি  স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, সেই সাথে ব্যবসার জন্য নতুন আইডিয়া দেয়। এটি আপনার ভার্চুয়াল মেন্টরের মত কাজ করে।

৩। একজন ভালো সফল উদ্যোক্তা হতে কি কি গুনাবলি থাকা দরকার?

একজন ভালো সফল উদ্যোক্তা হতে হলে অনেক গুণাবলি থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী হলো: দৃঢ়তা, সৃজনশীলতা, ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণ, যোগাযোগ দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকা উচিত।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply