Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ যোগাড়ের ৭ টি উপায়

More Share, More Care!

উদ্যোক্তা বলতে আমরা তাকেই বুঝি যিনি ব্যবসা সম্পর্কে  ধারণা রাখেন এবং একটি পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করতে কাজ করেন যা লোকেরা কিনবে অথবা সার্ভিস গ্রহণ করবে। একজন উদ্যোক্তা তাদের নতুন ব্যবসার জন্য বেশিরভাগ ঝুঁকি এবং উদ্যোগ নেন  এবং প্রায়শই তাকে  একজন স্বপ্নদর্শী বা আইডল হিসাবে দেখা হয়।ব্যবসা শুরু করার জন্য উদ্যোগ  ও ব্যবসায়িক -ধারণার পরই যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো পুঁজি। স্টার্টআপ-মনস্কদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং জিনিসগুলির মধ্যে একটি হল বিনিয়োগ করা, তাদের নিজস্ব দক্ষতা এবং ক্ষমতা তৈরি করা।

চলুন এক নজরে দেখা যাক ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ যোগাড়ের সাতটি উপায় –

১. নিজস্ব সেভিংস 

উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছে থাকলে ঠিকমতো প্ল্যানমাফিক আগাতে হবে। ব্যাক্তিগত সেভিংস বা জমানো টাকা এক্ষেত্রে প্রয়োজন। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট এমাউন্টের টাকা সেভিংসের মাধ্যমে বিজনেস শুরু করা যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা দাঁড় করানো  যেতে পারে।  নিজের টাকা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের উদ্যোগকে বড় করে নেওয়া যায়।যাদের স্বপ্ন উদ্যোক্তা হবার ,তারা স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই টাকা জমাতে পারেন। মনে রাখতে হবে,ব্যাবসায় সফল হবার জন্য টাকার চেয়েও প্রয়োজন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের  মার্কেট বুঝা, প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং অডিয়েন্স সিলেক্ট করা ।

২.পরিবারের সাহায্য 

বিজনেসের মূলধন বা পুঁজি সংগ্রহ করার জন্য মা ,বাবা এবং আত্মীয় স্বজন থেকে সাহায্য  যেতে পারেন। এক্ষেত্রে  কনভেন্সিং ক্ষমতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস তৈরী হবে।অনেকেই পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়ি ,জমি জমা বিক্রি করে কিংবা বন্ধক রেখেও পুঁজি সংগ্রহ করেন ।বেশিরভাগ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য, প্রথম বিনিয়োগকারীরা তাদের বড় আইডিয়াতে আগ্রহী হবেন তাদের বাবা-মা, পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।

৩. ক্রাউডফান্ডিং 

ক্রাউডফান্ডিং বর্তমানে স্টার্টআপ কিংবা ব্যবসার জন্য  বিকল্প ফান্ড বা  তহবিল যোগাড়ের অনলাইন মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হয়।ক্রাউডফান্ডিং হল প্রকল্প এবং ব্যবসার জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি উপায় যা তহবিল সংগ্রহকারীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক লোকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম করে।একটি সফল ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন  চালানোর জন্য আপনাকে অডিয়েন্সের  দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে এবং তাদের বোঝাতে হবে যে আপনার ব্যবসা তাদের বিনিয়োগের জন্য লাভজনক।ক্রাউডফান্ডিং এর জন্য সবচেয়ে সুপরিচিত ওয়েবসাইট হল Kickstarter, Seedrs এবং Crowdcube।

৪.এঞ্জেল ইনভেস্টর

এঞ্জেল ইনভেস্টর সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে স্টার্টআপগুলিকে অর্থায়ন করেন, প্রায়শই তাদের নিজস্ব অর্থ দিয়ে।অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগ প্রায়শই অনেক স্টার্টআপের জন্য ফান্ড কালেকশনের  প্রাথমিক ধাপ এবং অনেকে এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।অনেক ওয়েবসাইটে ইনভেস্টরদের এপ্রোচ করার কন্টাক্ট পাওয়া যায় যেমন- funded.com .

এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে লিঙ্কডিন এবং ফেসবুকের মাধ্যমেও কানেকটিভিটি বাড়ানো যায়।

৫.সরকারি লোন

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বরাদ্দ করেছে। এগুলো সম্পর্কে খোঁজ রাখার জন্য পত্রিকা ,ম্যাগাজিন এবং ইন্টারনেট যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। অনেক শিক্ষার্থী তাদের ব্যবসার জন্য সরকারী ঋণ স্কিম থেকে উপকৃত হয়েছে যখন তারা এখনও তাদের ডিগ্রির জন্য অধ্যয়ন করছে।

৬.বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিম এবং প্রতিযোগিতা দেখুন

সরকারি বেসরকারিভাবে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রচুর কম্পিটিশন আয়োজন করা হয়। সেগুলোর খোঁজ খবর রাখতে পত্র পত্রিকা এবং ইন্টারনেট যথেষ্ট। সেগুলোতে অঙশগ্রহন করে প্রাইজ মানি কালেক্ট করা সম্ভব। সরকারিভাবে উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত একটি ইভেন্ট হচ্ছে -Bangabandhu Innovation Grant (BIG) 2023 যার প্রাইজ মানি এক কোটি টাকা।

৭. ব্যাংক ঋণ এবং ক্ষুদ্র ঋণ

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট সম্পর্কে ধারণা এবং  , ট্রেড লাইসেন্স, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্র, প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ইত্যাদি থাকতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের আয়োজন করেছে।অনেক সমিতি আছে যারা ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে থাকে।

এভাবে নিজের জন্য সঠিক উপায় নির্ধারণ করে উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন এবং প্রচুর ধৈর্যশীল হতে হবে।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply