Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

নতুন ব্যবসা শুরুর আগে লক্ষ্যণীয় ১০ টি বিষয়

More Share, More Care!

আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হতে চান, তখন একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আপনার মধ্যে থাকা উচিত। আমরা সকলেই জানি ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মোট আয় থেকে সকল ব্যয় বাদ দেয়ার পর যে অংশ অবশিষ্ট থাকে সেটি হচ্ছে মূলত ব্যবসায়ের লভ্যাংশ বা মুনাফা। তাই নতুন ব্যবসা শুরুর আগে লক্ষনীয় ১০ টি বিষয় অবশ্যই জেনে রাখা উচিত। এতে করে আপনার ব্যবসায় পরিচালনা করতে সহজ হবে এবং সঠিক পদ্ধতিতে মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।

ব্যবসায় পরিচালনা করার সময় এমন কিছু মুহূর্ত আসে যেখানে নিজেকে অসহায় মনে হয়। আর এই অসহায় বোধ কাটিয়ে ওঠার জন্য অবশ্যই পূর্বে থেকে ব্যবসায় পরিচালনার জন্য সঠিক পরিকল্পনা করা জরুরী। খুব সাধারণ একটি বিষয় আপনি একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে অবশ্যই ব্যবসায়ের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বুঝতে পারবেন না। তাই আপনি যাতে একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে সকল খুঁটিনাটি বিষয়গুলো মাথায় রেখে মুনাফা অর্জনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন তার জন্য অবশ্যই আপনার কিছু বিষয় নজর বা লক্ষ রাখতে হবে। আর যে বিষয়গুলোর ওপর আপনাদের একান্তই গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে সে বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

নতুন ব্যবসা শুরুর আগে লক্ষনীয় ১০ টি বিষয়

আপনি যদি একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে সঠিক পরিকল্পনা অনুসারে একটি ব্যবসায় পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা করতে চান, তাহলে ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ ১০ টি বিষয় জেনে নিতে হবে। এছাড়াও ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য আরো অন্যান্য বিষয়গুলো অবশ্যই আপনাদের জেনে নিতে হবে তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবে। 

১. প্রাথমিক মূলধন

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবশ্যই অর্থের প্রয়োজন।  আপনি যখন ব্যবসায় পরিচালনার করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন তখন অবশ্যই সেই ব্যবসার জন্য পুঁজির প্রয়োজন হয়। ব্যবসায়িক ভাষায় এই পুঁজিকে মূলধন বলা হয় এবং ব্যবসায়ের প্রথম মূলধনকে প্রাথমিক মূলধন হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাই নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে অবশ্যই প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহ করতে হয় এবং সেই মূলধন সঠিকভাবে সঠিক স্থানে ব্যয় করতে হয়।

২. সুষ্ঠু ব্যবসা পরিকল্পনা প্রণয়ন

একটি সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়। কারণ আপনি যদি পূর্বে থেকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার সকল প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা প্রণয়ন না করেন তাহলে ব্যবসা পরিচালনার করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তবে পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি যে পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করবেন তার বিকল্প একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে পূর্বে থেকে রেখে দিতে হবে।

যে কোন কারণবশত যদি আপনার প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় তাহলে দ্বিতীয় পরিকল্পনা অনুসারে ব্যবসায়ের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। নতুবা আপনি বড় ঝুঁকি সম্মুখীন হতে পারেন। তাই অবশ্যই সুষ্ঠু ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা আবশ্যক। 

৩. সঠিক পণ্য নির্বাচন এবং পণ্যের চাহিদা নির্ধারণ

নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে যখন আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিবেন আপনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তখন অবশ্যই আপনি যে পণ্য নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে চান সে পণ্য নির্বাচন করতে হবে। বাজারে সেই পণ্যের চাহিদা কিরূপ রয়েছে সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে সঠিক পণ্য বাছাই করতে হবে। আর সঠিক পণ্য বাছাইয়ের জন্য আপনাকে অবশ্যই বাজার বিশ্লেষণ করতে হবে।

বাজার বিশ্লেষণ করার ফলে আপনি জানতে পারবেন ভোক্তাদের মধ্যে কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে এবং কোন পণ্যটি ভোক্তাদের প্রয়োজন। কারণ আপনি যখন ব্যবসায়ী হিসেবে একটি পণ্য উৎপাদন করবেন বা বিক্রয় করবেন সেই পণ্যটি ভোক্তাদের কাছে কতটা প্রয়োজন এবং চাহিদা রয়েছে তা অবশ্যই পূর্বে থেকে জেনে নিতে হবে। আর এর ফলে আপনার সঠিক পণ্য নির্বাচন করতে সহজ হবে। 

৪. ব্যবসায়ের স্থান নির্বাচন

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ব্যবসায়ীর স্থান নির্বাচন। আপনি যে পণ্যটি নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করতে চাচ্ছেন সেই পণ্যটি কোন স্থানে বেশি বিক্রয় হবে অর্থাৎ কোন স্থানে সেই পণ্যটির চাহিদা রয়েছে সেই স্থানে ব্যবসায়ের স্থাপন করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে কাপড়ের ব্যবসায়ের দোকান দেন তাহলে সেই ব্যবসায়ীটি সঠিক স্থান নির্বাচন হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে খাবারের দোকান অথবা লাইব্রেরী দোকান প্রতিষ্ঠা করলে সেই ব্যবসায় মুনাফা অর্জন সম্ভব হবে এবং সেই ব্যবসায়ের স্থান নির্বাচন সঠিক হবে। সুতরাং এভাবেই ব্যবসায়ের সঠিক স্থান নির্বাচন করতে হয়।

৫. অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা

একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আপনাকে যে উচ্চশিক্ষিত হতে হবে এমন বিষয় নয়। আপনার মধ্যে সাধারণ শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা থাকলে আপনি সহজেই যে কোন ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়ী পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। তবে বৃহত্তর ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই আপনাকে সঠিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে এবং অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

তবে আপনার মধ্যে যদি কোন শিক্ষা না থাকে তাহলে আপনি যে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারবেন না এই বিষয়টি যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ একজন মুদি দোকানী কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাই ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থাকা প্রয়োজন। তবে অবশ্যই এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে শিক্ষা মানেই সার্টিফিকেট নয়।

৬. সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার

বর্তমান সময়ে নতুন ব্যবসায় শুরু করার জন্য অবশ্যই প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ বর্তমান সময়ে সবকিছু প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। তাই উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা নিকট পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়া সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজন মাফিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ব্যবসায়ের ব্যয়ের পরিমান বৃদ্ধি পায় সেহেতু অবশ্যই বুঝে এবং সঠিক সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। 

৭. সঠিক কর্মী নির্বাচন

একটি ব্যবসায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই কর্মী বা সহকর্মীর প্রয়োজন হয়। সহকর্মী নির্বাচন করার জন্য অথবা কর্মী নির্বাচন করার জন্য অবশ্যই সঠিক কর্মী নির্বাচন করতে হবে। আপনার ব্যবসায়ের জন্য যে দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তি প্রয়োজন সেই ব্যক্তিকে আপনার ব্যবসায়ী নিয়োগ দিতে হবে। যদি কর্মীদের দক্ষতা না থাকে তাহলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। সঠিক কর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশ্বস্ততা এবং পেশাগত দক্ষতার ওপর নজর রাখতে হবে। ব্যবসায়ে  কর্মী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনভাবেই আবেগ দ্বারা তারিত হওয়া যাবে না। কারণ সঠিক কর্মী নির্বাচনের উপর নির্ভর করে আপনার ব্যবসায়ের মুনাফা অর্জন।

৮. ব্যবসায় ঝুঁকি মোকাবেলায় উপায় অবলম্বন

যেকোনো কাজ করার সময় ঝুঁকি আসবে এটাই স্বাভাবিক বিষয়। ঠিক তেমনি ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য মুনাফা অর্জন করা যতটা যুক্তিযুক্ত ঠিক তেমনি ব্যবসায়ের ঝুঁকি আসতে পারে এটাও যুক্তিযুক্ত। তবে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে সেটি যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে ব্যবসায়ের ঝুকি কম হবে বা ব্যবসায় ঝুঁকি নাও হতে পারে।

তবে যে কোনো কারণে যদি ব্যবসায়ীর ঝুঁকি হয় তাহলে অবশ্যই বুদ্ধিমত্তার সাথে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যবসার ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে এবং অল্পসময়ে ঝুঁকি হতে উত্তোলন করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

৯. দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত থাকা

ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠান এর ওপর যেহেতু ভোক্তার চাহিদা এবং প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে সেহেতু অবশ্যই দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। যে দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠানে এর সংখ্যা বেশি সেই দেশের উন্নয়ন তত বেশি হয়ে থাকে। এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার সময় অবশ্যই রাজনৈতিক বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে সমতা বজায় রাখতে হবে। ব্যবসায়ের সাফল্য অর্জনের জন্য যে সকল বিষয়গুলো ব্যবসায়ের কার্যাবলী কে প্রবাহিত করতে পারে সেই সকল বিষয়ের প্রতি অবগত থাকতে হবে। 

১০. ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে জানা

একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে নতুন ব্যবসায় শুরু করার সময় অবশ্যই সে ব্যবসায়ের প্রতিটি কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সঠিক হবে এরকম বিষয় নয়। নতুন ব্যবসায় পরিচালনা করার সময় যেকোনো ব্যর্থতা আসতে পারে অথবা নিজের দুর্বলতা প্রকাশ পেতে পারে। এ সকল বিষয়গুলো প্রকাশ পাওয়ার পর অবশ্যই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে যাতে করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না হয়। এবং নিজের দুর্বলতা কোথায় রয়েছে সেটি খুঁজে বের করার পর সেই দুর্বলতা হতে উত্তরণ করে ব্যবসায়ের সফলতা নিয়ে আসতে হবে।

এছাড়াও একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে আপনাদের এই সকল ১০টি বিষয়ের বাহিরে আরো যে সকল বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো হচ্ছে-

  • ব্যবসায় পরিচালনা করার যোগ্যতা আপনার মধ্যে আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।
  • ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য পারিবারিক সহযোগিতা সাথে রাখতে হবে।
  • ব্যবসায়ের একটি সঠিক নাম নির্ধারণ করতে হবে।
  • ব্যবসায়ের লাইসেন্স এর জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
  • ডিজিটাল উপায়ে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে।
  • সঠিক উপায়ে ব্যবসায়ের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে।
  • ব্যবসায়ের ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে।
  • ব্যবসায়ীর সকল কর্মীদের দক্ষতা অনুসারে কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে।
  • ব্যবসার নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে।
  • প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপডেট থাকতে হবে।
  • প্রয়োজন এ পরামর্শ গ্রহণ করার ক্ষমতা নিজের মধ্যে রাখতে হবে।
  • ব্যবসায়ের কর্মী এবং ব্যবসায় সংক্রান্ত সকল ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষমতা নিজের মধ্যে রাখতে হবে। ইত্যাদি।

FAQ

নতুন ব্যবসায় শুরু করার জন্য পন্য নির্বাচন করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তরঃ আপনি যখন একটি ব্যবসা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন অবশ্যই আপনাকে যে পণ্য বা সার্ভিস প্রদান করতে চাচ্ছেন সে বিষয়টির উপর লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ আপনি যদি সঠিক পণ্য বা সার্ভিস নির্বাচন করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি ব্যবসায়ের উন্নতি করতে পারবেন।

নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে বাজার বিশ্লেষণ করা উচিত কেন?

উত্তরঃ একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে অবশ্যই বাজার বিশ্লেষণ করতে হবে। কারণ আপনি যদি বাজার বিশ্লেষণ করেন তাহলে বুঝতে পারবেন ওই সময়ে ভোক্তাদের কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা বেশি। কারণ ভোক্তার চাহিদা এবং প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে ব্যবসায়িক পণ্য নির্বাচন করতে হয়।

ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত?

উত্তরঃ বর্তমান সময়ে সকলেই জানি সকল কাজ প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ ডিজিটালাইজ হয়ে যাচ্ছে। তাই ব্যবসায় এর ক্ষেত্রে যদি প্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে তাহলে অবশ্যই সেই ব্যবসায়ের উন্নতি দ্রুত হয় এবং কাঙ্খিত লক্ষ্য পৌঁছাতে সহজ হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার না করে যদি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করতে যান তাহলে অবশ্যই ব্যবসায় ক্ষতিসাধন হতে পারে।

নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে কেন আপনার পূর্বে থেকে কিছু বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন?

উত্তরঃ একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে অবশ্যই আপনাকে পূর্ব থেকে ব্যবসায় পরিচালনা করা ও ব্যবস্থাপনা করার জন্য পূর্ব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন এবং জেনে রাখা প্রয়োজন। আপনি সঠিকভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারবেন না এবং ব্যবস্থাপনা ও করতে পারবেন না। আর এর ফলে আপনার ব্যবসায়ের মুনাফা অর্জন সম্ভব হবে না।

একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবসায়ের ঝুঁকি গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন কতটুকু?

উত্তরঃ একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে অবশ্যই ঝুঁকি গ্রহণ করার ক্ষমতা অর্থাৎ মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা প্রয়োজন।। কারণ নতুন যে কোন কাজ করতে গেলে অবশ্যই কোন না কোন ভুল হতেই পারে তাই সেই ভুল হতে শিক্ষা গ্রহণ করে অর্থাৎ ভুল থেকে যদি কোন ঝুঁকি চলে আসে তাহলে অবশ্যই সেই ঝুঁকি মোকাবেলা করার ক্ষমতা অর্থাৎ মানসিক প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।

শেষ কথা

যেকোনো কাজ করার পূর্বে অবশ্যই মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। তাই আপনি যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন আপনি ব্যবসায় পরিচালনা করতে চান তাহলে অবশ্যই একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। আশা করি নতুন ব্যবসা শুরুর আগে লক্ষনীয় ১০ টি বিষয় জেনে নেওয়ার পর আপনাদের ব্যবসায় পরিচালনা করতে সহজ হবে। এছাড়াও এই দশটি বিষয়ের বাহিরে আরো কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো পর্যায়ক্রমে সময়ের সাথে নিজেদেরকে আয়ত্ত করে আনতে হয় এবং শিখে নিতে হয়। আপনি যদি ব্যবসায় সংক্রান্ত কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

 

 


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply