Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ার ৭ টি সুবিধা

More Share, More Care!

তরুণ উদ্যোক্তারা এখন বিশ্বকে এগিয়ে নিচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের তরুন ধরা হয়। তরুন উদ্যোক্তা হল তরুনদের দ্বারা সৃষ্ট উদ্যোক্তামূলক কার্যকলাপ যা মূলত কোন পন্য না সেবার উৎপাদনের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এখন তরুন উদ্যোক্তার গুরুত্ব এখন অপরিসীম। আর এই গুরুত্বের ফলস্বরুপ আমাদের দেশে বর্তমানে তরুন উদ্যোক্তার পরিমান অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকে আমরা তরুনদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুবিধাগুলো কী তা নিয়ে আলোচনা করবো।

১। বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি

দিন দিন আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী বেকারত্বের হার ছিল ৬.২ %। IMF রিপোর্ট ২০২২ সালে এটি বেড়ে ৭.১১ % হয়েছে। তরুন উদ্যোক্তা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এই বিশ্ব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। আমাদের দেশেও তরুনরা এখন অনেকেই চাকুরি খুঁজে সময় নষ্ট না করে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। ফলে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি মিলছে।

২। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বি

তরুণরাই যে আমাদের বিশ্বের ভবিষ্যৎ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে, তরুণ উদ্যোক্তারা অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। কারণ, তরুন উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ সম্পদ ব্যবহার এবং অভিনব উদ্ভাবন বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখে। শিপ্লোদ্যোগ হল তরুনদের জন্য তাদের পরিবার, সম্প্রদায় এবং সমাজে আরও অর্থপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখার সর্বোত্তম প্ল্যাটফর্ম। নতুন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তারা নিজে ও পরিবারকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বি হতে সাহায্য করে।

৩। নতুন উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখা

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় যুবকরা বেশি উদ্ভাবনী। বিশ্বায়ন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তরুণদের আরও উদ্ভাবনী হতে সাহায্য করে। তারা স্থিতাবস্থা ভাঙতে ভয় পায় না, এবং তারা সাংস্কৃতিক বাধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তরুন উদ্যোক্তারা নতুন ফার্ম তৈরি করে অভিনব পণ্য এবং প্রক্রিয়া তৈরি করে অর্থনীতির জন্য নতুন মূল্যবোধ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, Facebook, WordPress, Mozilla Firefox, এবং Media Catch এর মত উদ্ভাবনগুলো তরুণদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল যখন তারা তাদের বয়স অল্প ছিল। আর এভাবেই তরুন উদ্যোক্তারা নতুন উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখতে পারে।

৪। নিজের জীবনের স্থপতি হয়ে উঠতে পারে

অল্প বয়সে একটি ব্যবসা শুরু করা আপনাকে আপনার নিজের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। আপনি জীবনে যা অর্জন করতে চান সেই লক্ষ্যগুলোকে অনুস্মরণ করে কাজ শুরু করতে পারেন। আপনি কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং তখন নিজেকে আরও সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ দিতে পারেন। উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে ব্যর্থতার ভয় কমিয়ে নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। আপনার কাছে শেখার, বড় হওয়ার এবং ভুল করার সময় আছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৃহত্তর সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে কারণ আপনি নিজের উদ্যোগ তৈরি করার চেষ্টা করেন। একজন ছাত্র হিসাবে, আপনার কাছে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ধারণা অন্বেষণ করার, বিভিন্ন পদ্ধতির সাথে পরীক্ষা করার এবং প্রয়োজন অনুসারে তা প্রয়োগ করার স্বাধীনতা রয়েছে। আপনার নিজের জীবনের স্থপতি হওয়ার চেষ্টায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা হওয়ার সুবিধা হল আপনার পছন্দের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।

৫। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে

তরুন প্রজন্ম প্রযুক্তি-ভিত্তিক উদ্ভাবনে আরও বেশি সক্ষম। এর কারণ তারা প্রযুক্তির সাথে বাঁচতে বেশি পছন্দ করে এবং তারা প্রযুক্তির উপর বেশি নির্ভরশীল। আজ আমরা নতুন নতুন কন্টেন্ট নির্মাতাদের দেখতে পাচ্ছি, বিশেষ করে এই তরুন প্রজন্মের মধ্যে। এছাড়াও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল গেমস, ডিজিটাল ক্রিয়েশনস, ভিআর ডেভেলপমেন্ট এবং রোবোটিক্সের মতো ক্ষেত্রগুলির ক্রমবর্ধমান বিকাশ হচ্ছে। যুবকদের এই ক্ষেত্রগুলিতে জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং তারা ইতিমধ্যে এই জিনিসগুলি শিখছে। আপনিও যদি প্রযুক্তিকে ভালোবাসেন তাহলে আপনার সামনে বিশাল সুযোগ রয়েছে নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে কাজ করার। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখার।

৬। নেটওয়ার্ক তৈরি

একজন উদ্যোক্তা হিসাবে, নতুন জ্ঞান অর্জন এবং তহবিল সংগ্রহ করা আপনার জন্য একটি কঠিন কাজ হতে পারে। আর এই কারনে একটি শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক থাকা অপরিহার্য। মজার বিষয় হলো বেশিরভাগ তরুণ উদ্যোক্তাদেরই নিজের বন্ধু এবং পরিবারের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকে যারা তাদের ব্যবসায়িক প্রচেষ্টায় সমর্থন করতে পারে। এই সমর্থন এক কথায় অমূল্য। এই সমর্থন উত্সাহ, সম্পদ এবং সংযোগ প্রদান করে যা তাদের ব্যবসা সফল করতে সাহায্য করতে পারে।

৭। কর্ম জীবনে স্বাধীনতা

যেহেতু তরুনরা আয় করে না তাই পিতামাতার উপর নির্ভরশীল থাকে। তারা বেশীরভাগ ছাত্রাবস্থায় থাকার কারনে তাদের চাকুরিতে যোগদানে বিভিন্নরকম বাঁধা থাকে। এই সব কারনে আমাদের দেশে তরুনদের মধ্যে বেকারত্ব বেশী এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও বেশ নিম্ন।
শিল্পোদ্যোগ তরুনদের নতুন পন্য ও সার্ভিস উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। তারা নিজের প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ার কারনে কর্ম জীবনে স্বাধীন থাকে। কারো মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কাউকে জবাবদিহি করারও প্রয়োজন পড়ে না।

পরিশেষে,
তরুনদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুবিধাগুলোই বলে দেয় সমাজের জন্যেও তরুনদের শিল্পোদ্যোগ কতটা জরুরী। একজন তরুন নতুন কোন ব্যবসা বা শিল্পের সাথে জড়িত হলে তার নিজের সাথে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে একইসাথে ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে। একজন তরুন তার শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও পন্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজের সাথে দেশেরও উন্নতিতে অবদান রাখতে পারে। তাই আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলটি অনেক তরুনকে উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply