Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

কীভাবে বুঝবেন যে আপনি উদ্যোক্তা হতে তৈরি?

More Share, More Care!

বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্ম চাকরির প্রতি অনীহা প্রকাশ করছে। তাই তারা ব্যবসায়ের মননিবেশ করার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্যারিয়ারে নিজের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য এবং স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য অবশ্যই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করা উচিত।  প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী অর্জনের পর সকলেই আর্থিকভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য চাকুরীয় জন্য ছুটে বেড়ায়। তাছাড়া বর্তমান সময়ে চাকরি সোনার হরিণের মতো হয়ে গিয়েছে। তাই চাকরির পিছনে না ছুটে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন যে আপনি উদ্যোক্তা হতে তৈরি?

নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার জন্য অবশ্যই একজন উদ্যোক্তার মধ্যে যে সকল গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন সেগুলো আপনার মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না যে আপনার মধ্যে কোন ধরনের বিষয়গুলো থাকলে আপনি উদ্যোক্তা হতে পারবেন। যারা নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে চাচ্ছেন এবং উদ্যোক্তার মধ্যে যে সকল বিষয়গুলো থাকা প্রয়োজন সেগুলো আপনার মধ্যে রয়েছে কিনা তা বুঝতে চাচ্ছেন। মূলত তাদের জন্য আমাদের আজকের আলোচনা। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এবং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আপনি নিজেও একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারবেন। তবে তার জন্য অবশ্যই আপনার মধ্যে একজন উদ্যোক্তার সকল গুণাবলী থাকা উচিত বলে মনে করি।

কীভাবে বুঝবেন যে আপনি উদ্যোক্তা হতে তৈরি

নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার জন্য অথবা একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তৈরি করার জন্য সবার আগে আমাদের মনের মধ্যে প্রশ্ন আসে কিভাবে বুঝবেন যে আপনি উত্তরটা হতে তৈরি। হ্যাঁ, একজন উদ্যোক্তার মধ্যে যে সকল বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত সে সকল বৈশিষ্ট্য যদি আপনার মধ্যে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি খুব সহজে বুঝে নিতে পারেন যে এখন আপনি উদ্যোক্তা হতে তৈরি। তবে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য এক কথায় মূলধন এবং সাহস টাকা প্রয়োজন। আপনার মধ্যে যদি যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সাহসিকতা থাকে এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার জন্য মুনাফা অর্জন করতে চান তাহলে অবশ্যই মূলধনের প্রয়োজন হয়। আপনার জন্য একজন উদ্যোক্তার মধ্যেই যেই সকল বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী থাকা প্রয়োজন সেগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল-

লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট আগ্রহী 

আপনি যে একজন উদ্যোক্তা হতে চান এবং আপনি সফলতা অর্জন করতে চান তার জন্য আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য অর্জনের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহী হতে হবে এবং কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য গুলো পূরণ করতে হবে। ব্যবসায়ী মুনাফা অর্জন হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য আর এই মুনাফা অর্জনের পেছনে রয়েছে একাধিক কার্যক্রম। তাই অবশ্যই উদ্যোক্তাকে লক্ষ্য অর্জনের যথেষ্ট আগ্রহী হতে হয়।

সুযোগ-সুবিধার বোঝার ক্ষমতা

উদ্যোক্তাদের মধ্যেই সুযোগ সুবিধা বুঝার ক্ষমতা থাকতে হয়। কোন সময়ে কোন উন্নতি বেশি বিক্রয় হবে সেই সুযোগ খুঁজে বের করতে হয় এবং সেই অনুসারে পণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হয়। যাতে করে পরবর্তী সময়ে কাজের চাপ বেশি না হয়। এছাড়া পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করার জন্য সুযোগ সুবিধার বিষয়টি উদ্যোক্তার মধ্যে থাকতে হয়। কারণ দৈনন্দিন সময়ে মূল্য উঠানামা করতে থাকি। বিশেষ করে যে সকল উদ্যোগ তারা শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন তাদের সুযোগ সুবিধা বোঝার ক্ষমতা অধিক পরিমাণে রাখতে হয়।

কঠোর পরিশ্রমী

যেকোনো কাজের জন্য যদি সফলতা নিয়ে আসতে হয় তাহলে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রমী হয়ে উঠতে। হয় নতুবা কোনভাবেই সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। খুব সাধারণ একটি বিষয় আমরা যখন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে চাই তখন আমাদের অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করতে হয় এবং এর ফলাফল ভালো হয়। ঠিক তেমনি একজন ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসায়ের জন্য অবশ্যই কঠোর পরিশ্রমী হতে হয় এবং সাফল্যের দিকে এগিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বহাল রাখতে হয়। প্রবাদে আছে পরিশ্রম সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা

কাগজে-কলমে সকল বিষয় সমাধান পাওয়া যায় না আর এর জন্য নিজের উপর রাখতে হয় আত্মবিশ্বাস। আপনি যখন একজন উদ্যোক্তা হবেন তখন আপনার মধ্যে অবশ্যই একজন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে হবে। কারণ যদি নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন না রাখেন তাহলে কোনভাবেই একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন না। নিজের মনের মধ্যে অবশ্যই রাখতে হবে আমি একজন উদ্যোক্তা তাই আমাকে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে এবং ব্যবসার সফলতার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আর ব্যবসায়ের কোন ঝুঁকি হলেও নিজের উপর বিশ্বাস হারানো যাবে না। ব্যবসায়ী ঝুঁকি আসলে বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

টিমের উপর নির্ভর করা

একজন উদ্যোক্তায় যদি একাধিক ব্যক্তি নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করে তাহলে অবশ্যই তার টিমে যত মেম্বার রয়েছেন তাদের মধ্যে নির্ভরতা বিষয়টি বিদ্যমান থাকতে হবে। একটি টিমের ওপর যদি নির্ভরতা না থাকে তাহলে কোনভাবেই একটি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। টিমের সকলের যেমন যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন ঠিক তেমনি একজন আরেকজনের উপর বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। এতে করে অল্প সময়ে একাধিক কাজ করা সম্ভব এবং যদি কোন ভুল হয় সেটি পজিটিভ ভাবে নিয়ে ভুলটিকে সমাধান করা উচিত। টিমের সকল ব্যক্তিদের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য আচরণগতভাবে যথেষ্ট অনুগামী হওয়া উচিত এবং প্রত্যেককে সম্মান করা উচিত।

নমনীয়তা বঝায় রাখা

একজন উদ্যোক্তাকে নমনীয় হতে হয়। তবে অবশ্যই উদ্যোক্তাকে তার লক্ষ্য অর্জনে অটুট থাকতে হবে এবং নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে।

সততা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করা 

ব্যবসায়ের সাথে সততা ব্যাপারটি অতপ্রতভাবে জড়িয়ে আছে। কারণ আপনি যদি সততা এবং ন্যায় পরন ভাবে ব্যবসায় না করেন তাহলে কোনভাবেই একজন ভালো ব্যবসায়ী হতে পারবেন না বা ব্যবসায়ী সফলতা পাবেন না। তাই অবশ্যই ব্যবহার করার জন্য নিজের মধ্যে সততা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করতে হবে। 

ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতা

ব্যবসায়ীর মুনাফা অর্জন এবং ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ আপনি যদি ব্যবসায়ী অধিক মুনাফ অর্জন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে অধিক পরিমাণে ঝুঁকি গ্রহণ করতে হবে। এবং সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। নতুবা আপনি কোনভাবেই সেই ঝুঁকি হতে উত্তরা হতে পারবেন না এবং সফলতা পাবেন না। তবে আপনি যদি বুদ্ধিমত্তার সাথে আপনার সৃজনশীল শক্তি  ব্যবহার করে ঝুঁকি মোকাবেলা করেন তাহলে অবশ্যই আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাকে ঝুঁকি মোকাবেলা করার মানসিকতা থাকতে হয়। 

চ্যালেঞ্জ নেয়ার মত মানসিকতা

সফল উদ্যোক্তা কি অবশ্যই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখতে হয় এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার ও ক্ষমতা রাখতে হয়। যখন ব্যবসার ঝুঁকি চলে আসে তখন সেই ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া যখন ব্যবসায়ের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা অথবা সঠিক সময়ে সঠিক পণ্য সরবরাহ করা এবং সেই পণ্য গ্রাহকের নিকট পৌঁছানোর জন্য যে সকল কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় তা মূলত চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হয়। তাই অবশ্যই একজন উদ্যোক্তার মধ্যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত ক্ষমতা রাখতে হয় এবং অন্যকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজের ব্যবসার সফলতা নিয়ে আসতে হয়।

সঠিক বিজনেস পার্টনার নির্ধারণ

আপনি যদি আপনার ব্যবসায়ী পার্টনার রাখতে চান বা আপনার ব্যবসার প্রয়োজনে পার্টনার প্রয়োজন সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে পার্টনার নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আপনার ব্যবসার জন্য এমন উপযোগী পার্টনার খুজে বের করতে হবে যে আপনার ব্যবসায়ীর মুনাফা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারবে। আপনি যাতে আপনার সকল দিক থেকে সে পার্টনার হতে সকল সাহায্য সহযোগিতা পান সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাই একজন উদ্যোক্তার মধ্যে অবশ্যই পার্টনার নির্ধারণের ক্ষমতা থাকতে হয়।

মূলধন নির্ধারণ

মূলধন নির্ধারণ অর্থাৎ ব্যবসায়ীর জন্য পুঁজি সংগ্রহ। আপনি যখন নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে সেই ব্যবসায় করার জন্য মূলধন সংগ্রহ করতে হবে। তবে মূলধন নির্ধারণ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে প্রথমে সীমিত আকারে  মূলধন নির্ধারণ করতে হবে। যদি আপনার ব্যবসায় কোন শেয়ার হোল্ডার বা অংশীদার থাকে তাহলে সেই অনুসারে আপনি মূল নির্ধারণ করবেন। আপনার ব্যবসায়ের আকার যেমন হবে ঠিক তেমনি মূলধন নির্ধারণ করতে হবে। একরকম মূলধন হয়, অংশীদারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদাররা মূলধন বন্টন করে নেন এবং যৌথ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা হয়। সুতরাং একজন উত্তর তার মধ্যে অবশ্যই মূলধন নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখতে হয়।

গ্রাহক নির্ধারণ

উদ্যোক্তাকে অবশ্যই গ্রাহক নির্ধারণ করতে হবে। আপনি যে সেবা বা পণ্য নিয়ে ব্যবসায় করতে চাচ্ছেন সেই পণ্যটি কাদের জন্য উপযুক্ত অর্থাৎ কোন বয়সী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত বা ছেলে নাকি মেয়েদের জন্য উপযুক্ত সেটি জেনে আপনাকে গ্রাহক নির্ধারণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি একজন লাইব্রেরী ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার গ্রাহক হবেন ছাত্রছাত্রীরা। অথবা আপনি যদি লেডিস পণ্য নিয়ে ব্যবসা করেন তাহলে অবশ্যই আপনার প্রধান গ্রাহক হবে নারী। তাই পণ্যের ধরন অনুসারে গ্রাহক নির্ধারণ করতে হয়।

নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি 

ব্যবসায়ের মুনাফা অর্জনের জন্য অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা। আপনি আপনার পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যত দ্রুত এবং যত বেশি নেটওয়ার্ক তৈরি করবেন তত দ্রুত আপনার পণ্য গ্রাহকদের কাছে যাবে। কারন আপনি যদি আপনার  পূর্ণ সম্পর্কে গ্রাহকদের না জানান তাহলে আপনার সেই পণ্য বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে না। এছাড়া এখন যেহেতু সবকিছু প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গিয়েছে সেহেতু এখন নেটওয়ার্ক তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে এবং সহজেই নেটওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব। তাই অবশ্যই একজন উদ্যোক্তার মধ্যে নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করার প্রবণতা রাখতে হবে।

প্রত্যাশা সীমিত রাখা

নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার জন্য অবশ্যই আপনার মধ্যে প্রত্যাশা সীমিত রাখতে হবে। আপনি যদি প্রত্যাশা অধিক পরিমাণে রেখে চেষ্টা কম করেন তাহলে কোন ভাবে আপনার সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাই একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি প্রত্যাশা সীমিত রাখতে হবে যাতে করে ভবিষ্যতে আপনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

আত্মপ্রচারণা করা

আপনি যখন একজন উদ্যোক্তা হবেন তখন অবশ্যই আপনার নিজেই নিজেকে মার্কেটিং করতে হবে অর্থাৎ নিজেই নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু এ বিষয়টি অনেকেই পছন্দ করেন না বা  নিজের মধ্যে লজ্জা বোধ কাজ করে। যদি আপনার মধ্যে লজ্জা বহুদ বা অপছন্দনীয় হয় তাহলে অবশ্যই আপনি একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রস্তুত নন। কারণ আপনি যদি আপনাকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পান তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠান এর পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে আপনার পণ্য বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। আর এজন্য গ্রাহকের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

পরিবর্তন করার মানসিকতা

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অবশ্যই পরিবর্তন করার মানসিকতা নিজের মধ্যে রাখতে হবে। কারণ উদ্যোক্তাকে অবশ্যই সৃজনশীল মানুষিকতার অধিকারী হতে হয় এবং প্রয়োজন অনুসারে নিজের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হয়। গ্রাহক বা বক্তাদের চাহিদা অনুসারে আপনার অবশ্যই পণ্যের পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। নতুবা আপনি বাজারে টিকে থাকতে পারবেন না। কারণ মানুষ সবসময় নিজেকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চালিত করতে পছন্দ করে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ টেকনোলজি কোম্পানির গুলো প্রতিনিয়র তাদের টেকনোলজির মধ্যে নতুনত্ব নিয়ে আসে এবং সেটি গ্রাহকদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পায়। এছাড়া অ্যাপেল কোম্পানি প্রতি বছর তাদের টেকনোলজির উপর নতুন নতুন টেকনোলজি যুক্ত করে তাদের পণ্যের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসে আর এর ফলে বাজারে তাদের পণ্যের চাহিদা অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। তাই অবশ্যই উদ্যোক্তা হিসেবে পরিবর্তন করার মানসিকতা থাকতে হয়। 

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহন

প্রতিটি মানুষ কখনোই সকল কাজে সাফল্য বয়ে আনতে পারে না। তাই আপনি যখন একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হবেন তখন অবশ্যই আপনার সেখানে কিছু না কিছু ব্যর্থতা থাকবে। আর এই ব্যর্থতা থেকে আপনাকে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং কিসের জন্য আপনার এই ব্যর্থতা হয়েছে সেই সূত্র খুঁজে বের করতে হবে। ধৈর্য সহকারে যদি আপনি আপনার সমস্যার সমাধান করেন এবং ব্যর্থতা থেকে যদি শিক্ষা গ্রহণ করেন তাহলে অবশ্যই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আপনি তৈরি।

প্রশ্ন করা

আপনি যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন যে আপনি উদ্যোক্তা হতে চান। তখন অবশ্যই আপনি ব্যবসায়ের সবকিছু জানবেন না। ধীরে ধীরে ব্যবসারী সকল কিছু জানতে হয়। যেহেতু আপনি একটা বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখতে পারছেন না সেহেতু অবশ্যই আপনার মধ্যে প্রশ্ন করার প্রবণতা থাকতে হবে। ব্যবসায়িক বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনাকে কোন না কোন সময় প্রশ্ন করতে হবে। আপনি যদি প্রশ্ন না করেন তাহলে ব্যবসায়ীর অনেক বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনি অবগত হতে পারবেন না।

তাই একজন সফল উদ্যোক্ত হওয়ার পেছনে প্রশ্ন করাটা একজন উদ্যোক্তার অনেক বড় গুণ বলে ধারণা করা হয়। কারণ আপনি যখন প্রশ্ন করবেন তখন অবশ্যই উত্তর খুঁজে পাবেন এবং পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা লাভ করতে পারবেন।

 

FAQ

১. কখন নিজেকে উদ্যোক্তা বলতে পারবেন?

উত্তরঃ যখন আপনি মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন তখন নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করতে পারেন।

 

২. একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের মধ্যে সাহস থাকা কেন প্রয়োজন?

উত্তরঃ একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের মধ্যে অবশ্যই সাহস রাখা প্রয়োজন। কারণ ব্যবসায়ের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয়। এমন কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে যে সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে কি হবে তা জানা নেই শুধুমাত্র ব্যবসায়ের উন্নয়নের জন্য সাহসিকতার সাথে সেই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।

 

৩. উদ্যোক্তাকে কেন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়।?

উত্তরঃ একজন উদ্যোক্তাকে অবশ্যই তার ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য একটি সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয় এবং প্রয়োজন একটি বিকল্প পরিকল্পনা করে রাখতে হয় যাতে করে ব্যবসায় চলমান থাকে।

 

৪. কিভাবে বুঝবেন যে আপনি উদ্যোক্তা হতে তৈরি?

উত্তরঃ যখন আপনার মধ্যে একজন উদ্যোক্তার সকল গুনাহ গুলি বিদ্যমান থাকবে তখন আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে তৈরি হবেন।

 

৫. ব্যবসায়ী ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জ এর মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

উত্তরঃ ব্যবসায়ের বিপরীত একটি দিক হচ্ছে ঝুঁকি। ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীকে ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। আর সঠিক পরিকল্পনা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি যখন ব্যবসায়ের ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেটি হচ্ছে মূলত আপনার চ্যালেঞ্জ। তবে একজন উদ্যোক্তাকে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখতে হয়।

শেষ কথা

কীভাবে বুঝবেন যে আপনি উদ্যোক্তা হতে তৈরি এ বিষয়টি সম্পর্কে আপনারা যারা বুঝতে চেয়েছিলেন আশা করছি আপনারা এখন অবগত হতে পেরেছেন। তবে সকল উদ্যোক্তার চিন্তাধারা এক নয় তাই নিজের মধ্যে সৃজনশীল শক্তি প্রয়োগ করে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা সম্ভব। তাই একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আপনার মধ্যে যে সকল মৌলিক বিষয়গুলো একান্ত থাকা প্রয়োজন অবশ্যই সেই সকল বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। এছাড়া নিজেকে চাকুরীজীবী হিসেবে পরিচিত করে তোলার চেয়ে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা শ্রেয়। আপনি যদি উদ্যোক্তা সম্পর্কিত আরো অন্যান্য যে কোন তথ্য জানতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply