Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল হওয়া কেন প্রয়োজন?

More Share, More Care!

বিশ্ব বাজারে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে দেখতে চাইলে অনেক পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রাখতে হয়। উদ্যোক্তা জীবনের প্রতি পদেই নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন সৃজনশীলতার সঠিক প্রয়োগ। সৃজনশীলতা হল একজন উদ্যোক্তার এমন এক মূল্যবান গুণ যার দ্বারা ব্যবসাকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিল গেটস, জুকারবার্গ, ইলন মাস্কের মতো বিশ্বের সব সফল উদ্যোক্তাদের সফলতার চাবিকাঠি এই সৃজনশীলতাই। উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল হওয়া কেন প্রয়োজন চলুন জেনে নেয়া যাক আজকে।

সৃজনশীলতা কী?

যেকোন কিছুকে নতুন করে সৃষ্টি বা আবিষ্কার করার নামই হল সৃজনশীলতা। আরেকভাবে বলা যায়, সৃজনশীলতা হল নিজের মেধা এবং জ্ঞান দ্বারা কোনো কিছুকে প্রচলিত নিয়ম বা আদলের বাইরে গিয়ে আলাদাভাবে সৃষ্টি করা। সৃজনশীলতা মানুষের মনন এবং মেধাকে প্রস্ফুটিত করে। এই গুণ হল মানবজীবনের আশ্চর্য গুণগুলোর একটি। 

সৃজনীশক্তি বা সৃজনশীলতাকে উদ্ভাবনী শক্তি বললেও ভুল হবে না। শিল্প ও সংস্কৃতির নতুনরূপ, আমেরিকা আবিষ্কার, কোনো ভাইরাসের জন্য টিকা আবিষ্কার, নতুন কোনো শিল্পকলা, নতুন পদ্ধতি ইত্যাদি যেকোন কিছু উদ্ভাবন করাই সৃজনশীলতা। তবে সৃজিত বস্তু যদি মানবজাতিসহ পুরো পৃথিবীর মঙ্গল বয়ে আনে তবেই কেবল সৃজনশীল মানুষ সার্থক হয়।

এই সৃজনশীলতার গুণেই সমাজের সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে। আমাদের আজকের সমাজ ব্যবস্থার যে বিবর্তন তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র সৃজনশীলতার জোরেই। সৃজনশীলতা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়। অন্যান্য সকল বিষয়ের মতো একজন ব্যবসায়িক মানুষের পেশাজীবনেও সৃজনশীলতার বহুবিধ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ব্যবসায়িক জীবনে সফল হতেও এর কোনো বিকল্প নেই।

ব্যবসার মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে এই উন্নত বিশ্বে নিজের পণ্য নিয়ে টিকে থাকতে হলে সৃজনশীলতাই একমাত্র পথ। এছাড়া ব্যবসার নানামুখী সম্প্রসারণে প্রয়োজন নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন। আর এটা তখনই সম্ভব হয় যখন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সৃজনশীলতার চর্চায় মনোনিবেশ করে। বর্তমান বিশ্বে ব্যবসার ক্ষেত্রে এতো উন্নয়ন সাধন হবার পেছনে নানা মনীষীদের নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারই দায়ী।

যে ১০টি কারণে উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল হওয়া প্রয়োজন:

১। নতুন কিছু উদ্ভাবনে:

ব্যবসার বাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন কিছু উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। কেননা আপনার পণ্যে নতুন এবং একেবারেই আলাদা কিছু থাকলেই কেবল ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। এজন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং ব্যবসার প্রসারে সর্বদাই পণ্যে নতুনত্ব আনতে হবে। আর পণ্যে এই নতুনত্ব আনয়নে অবশ্যই সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনীশক্তির প্রয়োজন।

সৃজনশীলতা ছাড়াও যেকোনো ব্যবসা শুরু করা গেলেও বেশিদূর আগানো যায় না। যুগের সাথে এবং কাস্টমারদের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে পণ্যের মান উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে কখনও না কখনও দেখতে হবে লোকসানের মুখ। তাই সৃজনশীল উদ্যোক্তারাই প্রতিযোগিতার এই যুগে সবসময় এগিয়ে থাকে।

 ২। পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি:

পণ্য হল ব্যবসার একমাত্র প্রাণ। পণ্যদ্রব্যের গুণগতমানের উপরই মূলত ব্যবসার সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে। এজন্য উদ্যোক্তাজীবনে সবসময়ই পণ্যের গুণগতমানের দিকে দৃষ্টি রাখতে হয়। পণ্যের মান খারাপ হতে শুরু করলে ক্রেতাদের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমাগত কমতে শুরু করে। অনেক উদ্যোক্তাকে দেখা যায় শুরুর দিকে পণ্যের গুণগতমান ঠিক রাখলেও, পরবর্তীতে ব্যর্থ হন। যার ফলস্বরূপ বেশিদূর আগাতে পারেন না।

একজন উদ্যোক্তা যখন তার পণ্য নিয়ে গবেষণা করেন এবং সেটাকে বর্তমান অবস্থার চেয়ে গুণগতমানের দিক থেকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যান তখন ব্যবসার বাজারে টিকে থাকা অনেক সহজ হয়ে যায়। পণ্যদ্রব্যের গুণগতমান বৃদ্ধি এবং পরিবর্তনে উদ্যোক্তাদের অবশ্যই সৃজনশীলগুণসম্পন্ন হতে হবে।

একমাত্র সৃজনীশক্তির বদৌলতেই পণ্য নিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে। শৈল্পিকভাবে পণ্যের মানের উন্নয়ন করতে গেলে একজন উদ্যোক্তাকে অবশ্যই নিজের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে।

৩। ব্যবসার জগতে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকা:

বর্তমান বিশ্বে প্রতিনিয়ত অগণিত উদ্যোক্তাদের আবির্ভাব হচ্ছে। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে অসংখ্য তরুণ প্রাণ উদ্যোক্তা হবার দিকেই ঝুঁকছে। যার কারণে এই ‘এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ’ টার্মটা বিশ্ব বাজারে ক্রমশ অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। ব্যবসার জগতে তাই টিকে থাকতে চাইলে অবশ্যই যেকোনোভাবে সমসাময়িক প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকতে হবে।

 আর প্রতিযোগীদের টক্কর দিতে হলে আপনার পণ্যের অবশ্যই কিছু ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। একইসাথে পণ্যের গুণগতমানও অক্ষুণ্ণ করে চলার মন-মানসিকতা থাকতে হবে। একজন উদ্যোক্তা এই সকল বিষয় তখনই ঠিকভাবে বন্টন করতে সক্ষম হয় যখন সে তার সৃজনশীল প্রতিভার দ্বারা ব্যবসায় নিত্য নতুন আইডিয়া বের করতে পারবে।

এ কারণে বিশ্বের বড় বড় সব উদ্যোক্তারা নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা বাড়াতে সদা তৎপর থাকেন। একমাত্র সৃজনশীলতার বলেই বিশ্ব বাজারে নিজের উদ্যোগ নিয়ে টিকে থাকা সম্ভব।

৪। ব্যবসার উন্নতি সাধনে:

ব্যবসার উন্নতি সাধনে অনেক বিষয়ই নির্ভর করে। তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে সৃজনশীল উদ্যোগ ব্যবসার প্রসার এবং উন্নয়নে অনেক বেশি প্রভাব রাখে। একজন উদ্যোক্তার সৃজনশীল চিন্তা এবং উদ্যোগ পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি পণ্যের একঘেয়েমিভাবও দূর করে। এতে করে উদ্যোক্তার উদ্যোগ বা পণ্য অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বর্তমান বাজারে ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে সব থেকে ভালো পণ্যটিই ক্রয় করতে উদ্যোগী। আর সৃজনশীলতার ছাঁচে পণ্য যখন গুণমান সব দিক থেকেই বাজারের সেরা পণ্য হবার স্বীকৃতি লাভ করে তখন ব্যবসার উন্নতি সাধন অনিবার্য হয়ে পরে।

৫। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিপ্লব আনয়ন:

বিশ্ব বাজারে অর্থনৈতিক বিপ্লব আনতে উদ্যোক্ত বা স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সকল উদ্যোক্তারা যখন নিজেদের সৃজনশীলতার জেরে নিজ নিজ পণ্যকে সবচেয়ে সেরা পণ্য বানাতে উদ্যমী হন তখন বাজারে ভালো পণ্য প্রাপ্তির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে পণ্যের চাহিদা দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও বাড়তে থাকে। আর এভাবেই একটি পণ্য বিশ্ব বাজারে ঢুকে পরে।

বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য যখন বিশ্ব বাজারে ঢুকে ক্রেতাদের চাহিদাকে পূরণ করা শুরু করে তখনই বৈশ্বিক অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠতে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষুদ্র পুঁজিতে আমাদের দেশীয় শিল্প বস্তুগুলোকে নিজস্ব সৃজনশীলতায় বিশ্ব বাজারে উপস্থাপন করছে।

যার কারণে একদিকে যেমন বৈশ্বিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে অপরদিকে রেমিটেন্স অর্জনের মাধ্যমে আমাদের দেশীয় অর্থনীতিও এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে অনলাইন প্লাটফর্মগুলোর ভূমিকা অনেক বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই প্লাটফর্মগুলো অনলাইন ব্যবসার মতো সুযোগ সৃষ্টি করেছে যা কিনা উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক বড় বিপ্লবেরও পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

৬। চাকরির বাজার ক্ষেত্র বৃদ্ধি:

সৃজনশীল উদ্যোক্তারা সদা সর্বদাই তাদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রকে বড় করার পরিকল্পনায় লেগে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফলও হন। এই সম্প্রসারিত ব্যবসায়িক দায়িত্বকে সঠিকভাবে পালনের জন্য সুদক্ষ এবং দায়িত্ববান কর্মীদের দরকার পরে।

ফলে অনেক মানুষের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আর এভাবেই ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য পরোক্ষভাবে ধীরে ধীরে বিশাল চাকরির বাজার ক্ষেত্র গড়ে ওঠে। তাই দেশ ও জাতির উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সৃজনশীল হতে হবে।

৭। দেশের ব্যবসাখাতের সমৃদ্ধি:

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাচীন ঐতিহ্যগুলো নিয়ে অনেক তরুণ উদ্যোক্তারা কাজ করছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফলও হচ্ছেন। জামদানী শাড়ি, মণিপুরী শাড়ি, বিভিন্ন পাটজাত পণ্য, তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, কাঁসাশিল্প ইত্যাদি বিলুপ্ত প্রায় শিল্পগুলোকে এসব তরুণ উদ্যোক্তারা নিজ সৃজনীশক্তি বলে দেশ-বিদেশসহ বিশ্ব বাজারে ফিরিয়ে আনছে।

এভাবেই আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উপায়ে পূণরূদ্ধার করে দেশের ব্যবসাখাতকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করে চলেছে। এ কারণে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল কাঠামোকে আরও উন্নত করতে সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

৮। জনগণের কাছে পণ্যের সহজলভ্যতা:

প্রতিটি উদ্যোক্তা যখন নিজ নিজ অবস্থান থেকে পণ্যের মান উন্নয়নে তৎপর হয়ে উঠবে তখন ক্রেতাদের কাছে সেরা এবং বৈচিত্র্যময় পণ্য পৌঁছে যাবার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যাবে। এতে করে ধীরে ধীরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পণ্যের সহজলভ্যতা কেবল বেড়েই চলবে।

পণ্য যত বেশি উন্নত হবে জনগণ তত বেশি উপকৃত হবে। আর পণ্য বা উদ্যোগকে উন্নত করতে একজন সৃজনশীল উদ্যোক্তা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

৯। পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি:

সাধারণত একটি মানসম্পন্ন পণ্যের চাহিদা বাজারে বেড়ে গেলেই উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রচুর চাপের সৃষ্টি হয়। এ কারণে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজন পরে। তবে অনেক সময় না বুঝে বেশি পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করে ফেললে লোকসানে পরার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

এ কারণে ঢালাওভাবে পণ্য উৎপাদন না করে অবস্থা বুঝে অন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এরকম পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোক্তাদের যথেষ্ট ক্রিয়েটিভিটি বা মননশীলতা থাকা বাঞ্ছনীয়।

১০। নতুন ব্যবসায়িক আইডিয়া জেনারেট:

ব্যবসার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যতা যেমন পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয় ঠিক তেমনি ব্যবসার প্রসার ও প্রচারও বাড়িয়ে দেয়। একটি উদ্যোগে এই সকল বিষয়গুলো অতোপ্রতোভাবে একটির সাথে আরেকটি জড়িত থাকে। এ কারণে নতুন নতুন ব্যবসায়িক আইডিয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

পণ্যের চিরায়ত রূপকে পরিবর্তন করে নতুন আঙ্গিকে রূপ দেয়া, পণ্যের প্রচারে নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করা, পণ্যকে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া ইত্যাদি সবই নির্ভর করে নতুন নতুন ব্যবসায়িক আইডিয়া জেনারেশনের ওপর। যেমন: বর্তমানে অনেক জামদানী শাড়ী বিক্রেতা শাড়ীর পাশাপাশি জামদানী মোটিফ গয়না, জুতা, ব্যাগ ইত্যাদি বৈচিত্র্যময় পণ্য নিজস্ব মেধায় তৈরি করে বাজারে আনছেন।

আবার বর্তমানকালে অনেকে ব্যবসার বিপুল প্রসারের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন উভয়ভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছেন যা কয়েক বছর আগেও খুব একটা প্রচলন ছিল না। এই সকল বিষয়কে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং আরও নতুন নতুন বিজনেস পদ্ধতি আনতে প্রতিটি উদ্যোক্তাদের আরও অনেক বেশি এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রতিনিয়ত ব্যবসায়িক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে ও গবেষণা করতে হবে।

শেষ কথা:

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া অনেকখানি চ্যালেঞ্জিং। এই পেশায় সফল হতে গেলে কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা ও মেধার পরিচয়ও দিতে হয়। দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে নিজের উদ্যোগকে তুলে ধরতে চাইলে অবশ্যই সৃজনশীলতার প্রয়োজন। একমাত্র সৃজনশীলতাই পারে একজন উদ্যোক্তার উদ্যোগ বা পণ্যে প্রাণ আনতে, ব্যবসায় বৈচিত্র্য দিতে। এ কারণে উদ্যোক্তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ে নিজের সৃজনীশক্তির প্রয়োগে আরও সচেষ্ট হতে হবে।

FAQ:

১। উদ্যোক্তা হতে সৃজনশীলতা কতখানি প্রয়োজন?

উদ্যোক্তা জীবনে সৃজনশীলতার যথেষ্ট প্রয়োগ করার মাধ্যমে ব্যবসায় নিজস্বতার ছাপ রাখা যায়। এই নিজস্বতাই একজন উদ্যোক্তার উদ্যোগ বা পণ্যকে আরও দশ জন উদ্যোক্তা থেকে আলাদা করে থাকে। তাই একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে সৃজনশীলতার বিকাশ অপরিহার্য।

২। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সৃজনশীল হতে করণীয় কী?

ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, বই, সাময়িকী, গবেষণাপত্র ইত্যাদি নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে নতুন নতুন ব্যবসায়িক আইডিয়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা এবং সফল উদ্যোক্তাদের অনুসরণ করলে নতুনভাবে ভাবতে শেখা যায় যা সৃজনশীল হতে অনেক সহায়তা করে।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply