Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কীভাবে একজন উদ্যোক্তাকে সফলতা এনে দেয়?

More Share, More Care!

যখন আমরা একজন সফল উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠাতা অথবা ব্যবসার মালিক প্রসঙ্গে কথা বলি, তখন আর যায় হোক ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনি না। তবে আপনি জানেন কি, আপনি যদি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তবে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তায় ফোকাস করা সবচেয়ে জরুরী বিষয়গুলোর একটি। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কীভাবে একজন উদ্যোক্তাকে সফল করতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে চলুন জেনে নেই ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বলতে কী বোঝায়।

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কী

এটিকে সহজভাবে বলতে গেলে, মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে নিজের এবং অন্যদের বিভিন্ন আবেগকে চেনার, নিয়ন্ত্রণ করার এবং মূল্যায়ন করার ক্ষমতা হিসাবে বর্ণনা করেন। কেউ কেউ বলে যে এটি একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য যা আপনি সাথে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন, আবার অনেকে বিশ্বাস করেন যে এটি এমন কিছু যা আপনি ধীরে ধীরে শিখতে পারেন এবং সময়ের সাথে সাথে উন্নতও করতে পারেন।

চলুন দেখি আপনার ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে কীভাবে নিয়ন্ত্রন করবেন এবং উদ্যোক্তা জীবনে কাজে লাগাবেন।

১। প্রথমেই আবেগকে উপলব্ধি করতে শিখুন। আবেগকে নিয়ন্ত্রন করে তাকে শক্তিতে রুপান্তরিত করার জন্য আপনাকে আগে আপনার ও অন্যদের আবেগকে উপলব্ধি করতে হবে।

২। আবেগের সাথে যুক্তিকে সমন্বয় করতে হবে। আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রনে থাকলেও তাকে যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন অনিবার্য হবে।

৩। আবেগ বুঝতে হবে খুব গুরুত্বের সাথে। কারণ আবেগ বুঝতে পারলে আপনি বুঝবেন কীভাবে তা আপনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে তা ব্যবসায় ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪। অবশেষে আপনাকে আবেগকে পরিচালনা করতে হবে। আবেগকে পরিচালনা করার জন্য নিয়ন্ত্রক ও প্রতিক্রিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ন দুটি চলক।

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার উচ্চ মাত্রায় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স থাকা জরুরি। কারণ এই গুণটি আপনাকে একজন ভালো নেতা ও ম্যানেজার হতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এই গুণটি কেবল আপনি কীভাবে নিজেকে পরিচালনা করেন তা প্রভাবিত করে না, সাথে এটি আপনাকে কর্মচারী, ব্যবসায়িক অংশীদার এমনকি ক্লায়েন্টদের সাথে আরো গভীরভাবে সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে।

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বিভিন্ন উপায়ে আপনাকে আরো ভালো উদ্যোক্তা করে তুলতে পারে। এগুলো হলঃ

১। আত্ম-সচেতনতা (Self-Awareness)

একজন উদ্যোক্তা হিসাবে আপনি যা কিছু করেন তার জন্য আত্ম-সচেতনতা অত্যাবশ্যক। আপনি কীভাবে আপনার সময় এবং সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যয় করবেন এটি তার দিক নির্দেশনা দেয়। এটি আপনাকে আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলো কোথায় তা স্পষ্ট করতে সাহায্য করে, যাতে আপনি এমন লোকদের নিয়োগ করতে পারেন যারা আপনার এবং আপনার নির্দিষ্ট দক্ষতার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে।

২। সম্পর্ক গড়ে তোলা (Building relationships)

উচ্চ স্তরের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ব্যক্তিরা তাদের ব্যবসার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা এবং দৃঢ় সংযোগ তৈরি করা সহজ বলে মনে করেন। এবং যেটা আমরা উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায়ই বলি, যে “আপনার নেটওয়ার্ক হল আপনার মূল্যবান সম্পদ”, অর্থাৎ সম্পর্ক গোড়ে তোলার দক্ষতা আপনাকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করতে পারে। মূল বিষয় হল আপনার সময় এবং শক্তি বুদ্ধির সাথে ব্যয় করতে হবে। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, যে নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে সংযোগের গুণমান পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩। যোগাযোগ (Communication)

যোগাযোগ বলতে সবসময় আপনি যা বলেন তা কিন্তু নয়। অনেক ক্ষেত্রে, আপনি কীভাবে বলছেন তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি উচ্চ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এর অধিকারী হন, তাহলে আপনি এমনভাবে জিনিসগুলি বলতে শিখবেন যা লোকেদের নিয়ন্ত্রন করতে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।

৪। সাফল্য (Success)

উদ্যোক্তা গ্যারি ভায়নারচুক তার বই “AskGaryVee”-এ, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে, তিনি এই কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: “If I could sell a formula made up of gratitude, empathy, and self-awareness it would be my billion-dollar coconut water idea.”

এই উক্তিটি থেকে আমরা উদ্যোক্তা জীবনে সফলতা লাভের জন্য ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স-এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি।

৫। গ্রাহকের চাহিদা চিহ্নিত করা (Identifying customer needs)

আপনার গ্রাহকের চিন্তা জগতের মধ্যে প্রবেশ করা আপনি যা ভাবেন তার চেয়ে বেশি কঠিন হতে পারে। আপনার অডিয়েন্স কী চায় সে সম্পর্কে অনুমান করা সহজ, কিন্তু গ্রাহকের চাহিদা শনাক্ত করার সর্বোত্তম উপায় হল ডাটার সংমিশ্রণ এবং গ্রাহকদের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সরাসরি যোগাযোগ করা। আপনি যদি আপনার গ্রাহকদের সাথে সহানুভূতিশীল হতে সক্ষম হন তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে তাদের চাহিদাগুলোকে আরও ভালভাবে মেটাতে আপনার পণ্য বা সেবাকে কোথায় উন্নত করতে হবে। একইসাথে, আপনি আপনার অডিয়েন্সদের কাছে পন্য আরও কার্যকরভাবে বাজারজাত করার নতুন উপায় খুঁজে পেতে সক্ষম হবেন।

পরিশেষে,

আপনার কাছে হয়ত ব্যবসা গড়ে তোলার একটি দুর্দান্ত আইডিয়া থাকতে পারে, তবে আপনার যদি ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এর অভাব থাকে তবে এটি কখনই ফলপ্রশু হবে না। একইভাবে, আপনি একটি সাধারন মানের আইডিয়াকে সাত, আট বা নয় অঙ্কের ব্যবসায় পরিণত করতে পারবেন যদি আপনি এটিকে প্রচুর পরিমাণে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লালন পালন করেন। আগেই বলেছি ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স যে কেবল একটি সহজাত গুনাবলি তা কিন্তু নয়। একে অনুশীলনের মাধ্যমে বাড়ানো যেতে পারে। তাই আপনার উদ্যোক্তা জীবনকে সফল করার ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে পুরোপুরি কাজে লাগান।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply