Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার কীভাবে খুঁজে বের করা যায়?

More Share, More Care!

পাশের দেশ ভারতের সংস্কৃতিতে কাস্টমারকে দেবতাতুল্য মনে করা হয়। একজন উদ্যোক্তার জন্য এটা কিছুটা সত্যও বটে! কেননা কাস্টমারই হল ব্যবসার মূল উপকরণ। আপনার ব্যবসার লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে আপনার ব্যবসায় কতজন কাস্টমার কীভাবে যুক্ত তার উপর। এজন্য ব্যবসায় প্রতিনিয়ত নতুন কাস্টমার যুক্ত করা খুবই জরুরী। তবে বেশিরভাগ উদ্যোক্তারা বিশেষত যারা নতুন ব্যবসা শুরু করেন তারা নতুন কাস্টমার কীভাবে খুঁজে পাবেন তা নিয়ে বেশ বিপাকে পরে যান। তাই আজকে আলোচনা করব একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার কীভাবে খুঁজে বের করা যায়?

ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার খুঁজে বের করা প্রয়োজন কেন?

কাস্টমার বা ক্রেতারা হল ব্যবসার মূল পরিচালক। কেননা তাদের পণ্য গ্রহণ বা বর্জনের উপরেই ব্যবসায় উন্নতি বা অবনতি সাধিত হয়। তাই যেকোন ধরনের ব্যবসায় সব সময় ক্রেতাদের চাহিদাকে সবার উপরে মূল্যায়ন করতে হবে। এ নিয়ে ইংরেজিতে একটি প্রবাদের প্রচলন রয়েছে- “Customer is Always Right“. অর্থাৎ ক্রেতাই সব সময় ঠিক। এমনকি ক্রেতা যদি কোনো ভুল কিছু নিয়ে অভিযোগ দেয়, একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হিসেবে আপনাকে সেটাই মেনে নিতে হবে। 

ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতাই হল সেই উপকরণ যার উপর ব্যবসার পরিধির প্রসার, জনপ্রিয়তা এবং উন্নতি নির্ভর করে থাকে। একটি ব্যবসা ধীরে ধীরে তখনই উন্নতির দিকে যায় যখন ব্যবসাটির সাথে ক্রমে ক্রমে নতুন কাস্টমারেরা যুক্ত হতেই থাকে। নতুন কাস্টমারেরা ব্যবসার প্রচারেও অনেক সহযোগীতা করে। আপনার ব্যবসায় নতুন ক্রেতা যুক্ত হওয়া কেবল তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন এই ক্রেতারা আপনার পণ্যের দৈনন্দিন ব্যবহারকারী এবং মূল্য পরিশোধক হবে। আপনি যত দ্রুত এবং যত বেশী নতুন ক্রেতার কাছে আপনার পণ্য নিয়ে পৌঁছতে পারবেন তত বেশী ব্যবসাকে প্রসারিত করতে পারবেন। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করার পরপরই নতুন ক্রেতা খোঁজার বিষয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত। 

ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার কীভাবে খুঁজে বের করবেন তার ১০টি উপায়:

একজন উদ্যোক্তা যখন নতুন ব্যবসা শুরু করে তখন সেই ব্যবসার সফলতা অথবা ব্যর্থতা কাস্টমারদের উপরই ন্যস্ত থাকে। কাস্টমাররা উদ্যোক্তার পণ্যকে কীভাবে এবং কতটুকু গ্রহণ করছে যেকোন ব্যবসায় এই দিকটিই মুখ্য। এজন্য ব্যবসার অন্যান্য দিকের উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কাস্টমারদের মনোযোগও আকর্ষণ করতে হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার কীভাবে খুঁজে বের করবেন তার ১০টি উপায় নিয়েই চলুন এবার আলোচনা করা যাক। 

১। প্রথমেই পণ্যের উপযোগী কাস্টমার খুঁজে বের করা:

ব্যবসার ক্ষেত্রে পণ্য যেটাই হোক না কেন সব পণ্যেরই একটা নির্দিষ্ট কাস্টমার ফ্যানবেজ বা কাস্টমার ক্যাটাগরি থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি পণ্যের জন্যই একটি নির্দিষ্ট ধরনের বা শ্রেণীর কাস্টমারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা সবসময়ই থাকে। কাস্টমারের এই গ্রহণযোগ্যতার শ্রেণী প্রতিটি পণ্যের জন্য আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কাস্টমারের বয়স, শ্রেণী, পেশা, পারিবারিক অবস্থা এবং কাঠামো ইত্যাদি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। যেমন: আপনি যদি বাচ্চাদের খেলনা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন সেক্ষেত্রে আপনার কাস্টমার হবে ওই সব বাবা-মারা যাদের সন্তান এখনও ছোট। 

আবার যদি আপনার পণ্য জামদানী শাড়ী হয়ে থাকে তাহলে আপনার কাস্টমার হবেন আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল এমন তরুণী থেকে মাঝবয়সী নারীরা। ব্যবসা শুরুর পরে আপনি যদি নতুন কাস্টমার আনতে চান আর তাদেরকে আপনার ব্যবসার সাথে নিয়মিত যুক্ত করতে চান তবে অবশ্যই আগে নিজের পণ্য অনুযায়ী সঠিক কাস্টমারদের খুঁজে বের করুন। নতুন কাস্টমারদের খুঁজে বের করার প্রথম শর্তই হল নিজের পণ্যের উপযোগী সঠিক কাস্টমারদের চিহ্নিত করা। 

২। সোস্যাল মিডিয়ার উপযুক্ত ব্যবহার:

নতুন কাস্টমার আনতে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান যুগে সোস্যাল মিডিয়া যেমন: ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, পিনটারেস্ট ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। এসব মিডিয়ামে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন পেইজ বা একাউন্ট খুলে সঠিকভাবে নিজের পণ্যের মার্কেটিং করতে হবে। নিজের পণ্যকে অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে যথোপযুক্তভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে ব্যবসায় প্রতিনিয়ত নতুন কাস্টমার যোগ করা কোনো ব্যাপারই না।  

৩। বর্তমান কাস্টমারদের পণ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে জানানো এবং উৎসাহিত করা:

ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার খোঁজার জন্য বর্তমান কাস্টমারদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের পণ্যকে যথাযথভাবে তাদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। পণ্যের গুণ, মান, উপকারিতা সবকিছুই বর্তমান ও পুরাতন কাস্টমারদের কাছে তুলে ধরতে হবে। এতে করে এই কাস্টমারেরা একদিকে যেমন আপনার ব্যবসার সাথে নিয়মিত যুক্ত থাকবে তেমনি আরেকদিকে তাদের পরিচিত সার্কেলে আপনার পণ্যকে রেফার করবে। আর এভাবেই বর্তমান ও পুরাতন কাস্টমারেরা আপনার ব্যবসায় নতুন কাস্টমারদের যুক্ত করতে অভাবনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। 

৪। ডিসকাউন্ট এবং বিভিন্ন কনটেস্টের আয়োজন করা:

ব্যবসার একদম শুরুর দিকে খুব একটা কাস্টমার না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। এজন্য অনলাইন বা অফলাইনে বিভিন্ন পণ্যের উপর ডিসকাউন্ট এবং কনটেস্টের আয়োজন করা যেতে পারে। কাস্টমারদের জন্য এই ধরনের সুবিধা দিলে একদিকে যেমন বর্তমান ও পুরাতন কাস্টমারেরা আপনার ব্যবসার সাথে আরও ভালোভাবে যুক্ত হতে পারে তেমনি অন্যদিকে নতুন কাস্টমারেরা এসব ইভেন্টে যুক্ত হয়ে আপনার পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে ও পণ্য ব্যবহার করারও সুযোগ পায়। এর ফলে দেখা যায় নতুন কাস্টমার যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার বেচা-কেনাও অনেক বৃদ্ধি পায়। 

৫। কোম্পানি এবং ব্যবসার জন্য নিখুঁত পোর্টফলিও তৈরি করা:

আপনার ব্যবসার জন্য তৈরি করা একটি নিখুঁত পোর্টফলিও নতুন কাস্টমারদের মনোযোগ আকর্ষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একটি ব্যবসার পোর্টফলিওকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন একজন কাস্টমার তা দেখার সাথে সাথেই আপনার পণ্য নিয়ে একটা পরিষ্কার ধারণা পায়। এক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইট যেকোন ব্যবসার জন্য খুব ভালো একটা পোর্টফলিও হতে পারে। এর পাশাপাশি অফলাইন শো-রুমও উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ ভালো একটা পোর্টফলিও হতে পারে। 

৬। ব্যবসার জন্য একটি ওয়েবসাইট বানানো এবং তা সহজলভ্য করা:

ডিজিটাল এই যুগে আপনি যে পণ্য নিয়েই ব্যবসা করেন না কেন যেকোন ব্যবসায় একটি সুসংগঠিত অনলাইন ভিত্তিক ওয়েবসাইট থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে শুধু ওয়েবসাইট থাকলেই হবে না তা যেন কাস্টমারদের কাছে সহজলভ্য হয় অর্থাৎ কাস্টমারেরা যেন সহজেই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনার ওয়েবসাইট সুবিধা যত বেশী সহজ এবং দ্রুত হবে, আপনার ব্যবসায় নতুন কাস্টমারেরা তত দ্রুত যুক্ত হতে থাকবে। এজন্য বিশেষত পণ্য ডিসপ্লে, পণ্য অর্ডার এবং সময়মতো ডেলিভারি এসব বিষয়ে বেশি তদারকি করতে হবে।

৭। বিভিন্ন অফলাইন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা:

বর্তমানে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি অনেক অফলাইন ইভেন্ট যেমন মেলা, ফ্যাশন-শো, রিয়েলিটি শো ইত্যাদির আয়োজন করে থাকে। এই ধরনের ইভেন্টগুলোতে বেশিরভাগ সময় সাধারণত উঠতি উদ্যোক্তাদের স্পন্সরশীপসহ আরও অনেক সুযোগ দেয়া হয়। নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন কাস্টমারদের কাছে নিজের পণ্যকে পৌঁছে দিতে এই অফলাইন ইভেন্টসমূহ দারুণ মার্কেটিং পলিসি হিসেবে কাজ করবে। 

৮। অন্য কোম্পানির সাথে পার্টনারশিপে যাওয়া:

নতুন ব্যবসা শুরুর কিছুদিন পরেই অন্য বড় কোম্পানিগুলোর সাথে পার্টনারশিপ করতে পারলে আপনার ব্যবসায় নতুন কাস্টমারের আনাগোনা অনেকখানি বাড়তে কার্যকরী। কেননা যেই কোম্পানির সাথে যুক্ত হবেন সেই কোম্পানিই আপনার পণ্যের মার্কেটিং অনেকটাই করে দিবে। আবার যেহেতু বড় কোম্পানিটি ইতোমধ্যেই অনেক কাস্টমারের কাছে পরিচিত এবং বিশ্বস্ত তাই তাদের রেফারেন্সে কাস্টমারেরা খুব সহজেই আপনার ব্যবসার সাথেও লেনদেনে আগ্রহী হবে। 

৯। পুরানো কাস্টমারদের সাথে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া:

পুরানো কাস্টমারেরা হল একটি ব্যবসার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এজন্যই হয়তো বলা হয়, ‘Old is Gold’. পুরাতন কাস্টমারদের মাঝে মাঝে বিভিন্ন অফার দেয়া, ডিসকাউন্ট দেয়া, তাদের জন্য আলাদাভাবে বিভিন্ন কনটেস্টের আয়োজন করা ইত্যাদির ফলে তারা আবার আপনার ব্যবসার সাথে যুক্ত হবার সুযোগ পায়। এতে করে দেখা যায় ব্যবসায় বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি পরোক্ষভাবে ব্যবসা এবং পণ্যের প্রচারও হয়ে যায়। যার ফলে নতুন কাস্টমার আসা শুরু হয়। 

১০। নিজের পণ্য এবং ব্যবসা সম্পর্কে লেখালিখি করা:

সাধারণত ব্যবসা শুরুর পরে নতুন ব্যবসার কথা ক্রেতারা সঠিকভাবে জানতে পারে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে জানলেও তারা নতুন পণ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় ব্যবসা এবং পণ্যের উপর পুরোপুরি বিশ্বাসও করতে পারে না। তাই ব্যবসা শুরুর পরপরই উচিত ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে উদ্যোগ নেয়া। এজন্য নিজের ব্যবসা এবং পণ্য নিয়ে অনলাইন এবং অফলাইন দুই জায়গাতেই লেখালিখি করা খুবই প্রয়োজন। পণ্যের মান, গুণ, উপকারিতা, উপকরণ, ব্যবহারবিধি, বিভিন্ন টিপস ইত্যাদি নিয়ে কাস্টমারদের প্রতিনিয়ত লেখালিখির মাধ্যমে জানাতে হবে। এতে করে নতুন কাস্টমারেরা আপনার ব্যবসা এবং পণ্যের প্রতি দ্রুত আকর্ষীত হবেন। 

শেষ কথা:

ব্যবসা হল অনেক ধৈর্যের একটি পেশা। দীর্ঘদিন লেগে না থাকলে এতে সফল হওয়া যায় না। অনেকদিনের চেষ্টায় তবেই কাস্টমারদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়। তবে নতুন উদ্যোক্তারা বুঝে উঠতে পারে না যে ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন কাস্টমার কীভাবে খুঁজে বের করা যায়? আশা করছি এখান থেকে এবার তারা ভালো ধারণা নিতে পারবে। 

FAQs:

১। ব্যবসায় নতুন কাস্টমার কেন জরুরি? 

ব্যবসার প্রসার এবং লাভ বৃদ্ধিতে নতুন কাস্টমারেরা অনেক বেশী কার্যকরী। যেহেতু একটি ব্যবসায় কাস্টমারেরাই মূল, তাই ব্যবসা বাড়াতে বা বেচাকেনা বৃদ্ধি করতে নতুন কাস্টমারের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। এছাড়া নতুন কাস্টমারেরা পণ্য নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেও যেকোন ব্যবসায় পণ্যের মান উন্নয়নে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে থাকে।

২। বর্তমান কাস্টমারদের কাছ থেকে রেফারেল নেয়া কতটা কার্যকরি?

বর্তমান কাস্টমারদের থেকে রেফারেল নিতে পারলে ব্যবসায় নতুন কাস্টমার যোগ করা খুব সহজ হয়ে যায়। রেফারেল হল কোনো ব্যবসা বা পণ্য নিয়ে কাস্টমারদের অভিজ্ঞতার মৌখিক উদ্ধৃতি। যা তারা তাদের পরিচিত সার্কেলে শেয়ার করে অথবা তাদেরকে ওই পণ্য কিনতে উৎসাহিত করে। এই কাজের বদলে বর্তমান কাস্টমারেরা কোম্পানি থেকে অল্প কিছু কমিশন পেয়ে থাকে। নতুন কাস্টমার আনতে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকরী। 

৩। উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কাস্টমার খুজে পাওয়া কঠিন হয় কেন?

ব্যবসার ক্ষেত্রে কাস্টমারদের আস্থা অর্জন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। উদ্যোক্তারা নতুন কাস্টমার খুঁজতে যেয়ে ঠিক এই সমস্যারই সম্মুখীন হন বেশী। এছাড়া প্রথমদিকে পণ্য ও ব্যবসার মার্কেটিং তেমন একটা না থাকার জন্যও নতুন কাস্টমারেরা আপনার ব্যবসা সম্পর্কে তেমন একটা জানতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে মার্কেটিং পলিসিগুলো প্রয়োগ করে নিজের ব্যবসা এবং পণ্যকে কাস্টমারদের দোড় গোঁড়ায় পৌঁছে দেয়া।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply