Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

পণ্য বিক্রির ৯টি ধাপ যা একজন উদ্যোক্তাকে জানতেই হবে

More Share, More Care!

একজন উদ্যোক্তা তার অভিনব ধারণাকে কাজে লাগিয়ে একটি পণ্য বা সেবা উদ্ভাবন করে থাকেন। আর এই পণ্য বা সেবাটি একজন ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হলে তাকে কাজ করতে হয় ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ইত্যাদি সহ নানান রকমের পরিকল্পনা নিয়ে। আর একটি ব্যবসাকে সফল করতে হলে এসব পরিকল্পনার চূড়ান্ত ধাপই হলো সেলস বা বিক্রি। এবং পণ্য যত বেশি বিক্রি হবে ব্যবসায় লাভও তত বেশি হবে। সেজন্য পণ্য বিক্রির এই ৯টি ধাপ যা একজন উদ্যোক্তাকে জানতেই হবে। আসুন জেনে নেই সেগুলো কি। 

১) পণ্যকে জানতে হবে ও বুঝতে হবে

 আপনি কী পণ্য নিয়ে কাজ করছেন অর্থাৎ কি বিক্রি করছেন সে সম্পর্কে আগে ভালো ভাবে জানুন। আপনার কাছে একজন ক্রেতা কী চায় তা আপনাকে বুঝতে হবে। পাশাপাশি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী যারা আছে তারা কী দিচ্ছে সেটাও ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে। আর সেজন্যই বিক্রয়কর্মীদের পণ্য, টার্গেট কাস্টমার, ইন্ড্রাস্ট্রি এবং প্রদত্ত ব্র্যান্ড ভ্যালুস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ভাবে আগে জানতে হবে। আপনি যেই পণ্যটি বিক্রি করবেন সেটির জন্য বাজারে মানুষের চাহিদা কেমন এবং পণ্যটি কেমন, কতটা উপকারী এইসব জেনে তারপর তার ব্যবসা শুরু করবেন।  

২) ক্রেতার পথে হাঁটা 

এখানে ক্রেতার পথে হাঁটা বলতে বুঝানো হয়েছে কাস্টমারের দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে জানা। আর বিক্রয় কৌশলের একটি ব্যাসিক শর্ত হল এটি। একজন ক্রেতা আপনার কাছে ঠিক কী চাইছেন তা ক্রেতার জায়গায় দাঁড়িয়ে আপনাকে বুঝতে হবে। তার মূল সমস্যাগুলি আসলে কি, তিনি কি সমাধান চাচ্ছেন সেটি অনুভব করতে হবে। এবং বিক্রয় এর ক্ষেত্রে একজন ক্রেতার ইমোশনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ মনে করবেন আপনি একজন ক্রেতা, এবং আপনি তার মত কিরে চিন্তা করবেন। তাহলেই আপনি আপনার ক্রেতার চাহিদা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

৩) পণ্য নিয়ে গবেষণা ও তার উন্নয়ন

আপনি যে পণ্যটি বিক্রি করবেন আপনার সেই পণ্যটি ক্রেতার জন্য আসলেই উপযুক্ত কী? আপনি যা বিক্রি করছেন আসলেই কি তা তার কাজে লাগবে? এগুলো গবেষণা করবেন। আর ক্রেতার চাহিদা বাড়াতে প্রোডাক্ট নিয়ে রিচার্স ও ডেভেলপমেন্ট এর কোন বিকল্প নাই। মার্কেটে কোন সময়ে কোনটার চাহিদা বেশি থাকে এবং ক্রেতারা কি কিনতে চায় সেগুলো নিয়ে একটু রিচার্স করবেন। এবং চেষ্টা করবেন চাহিদা অনুযায়ী আপডেট পণ্য গুলো স্টক করার। এতে কাস্টমার তাদের চাহিদা অনুযায়ী যেটা দরকার সেটা আপনার কাছেই পাবে এবং বার বার আপনার কাছেই আসবে।  

৪) ক্রেতার কাছে আসা

আপনি আপনার পণ্যটি বিক্রি করতে হলে অবশ্যই ক্রেতার কাছে আসতে হবে। আত্মবিশ্বাস ও সৌজন্যতার সাথে আপনাকে ক্রেতার আস্থা অর্জন করে নিতে হবে। তার সাথে আলোচনা করতে হবে সততা ও দক্ষতার সাথে। আপনাকে বুঝতে হবে যে উনি কী চাচ্ছেন। অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে তার আগ্রহের। তিনি কি চান, কেন চান এটা বুঝতে হবে। এবং তার সাথে নম্র আচরণ করবেন। মাথা গরম একদম করবেন না। দামাদামি করার সময় কৌশলে নরম সুরে দামাদামি করবেন। তাকে কথার মাধ্যমে একেবারে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। 

৫) উপস্থাপন করা 

আপনি একজন ক্রেতার মন জয় করতে পারলেই এবার আসবনে উপস্থাপন পর্যায়ে। আর বিক্রির ধাপে এটাই অত্যন্ত দরকার। আপনি আপনার পণ্যটিকে এমন ভাবে উপস্থাপন করবেন যাতে ক্রেতা সেটি কিনতে চায়। কারন আপনার একই পণ্য অন্য বিক্রেতারাও বিক্রি করে। তাই চেষ্টা করবেন তাদের চেয়েও ভাবেভাবে উপস্থাপন করার। পণ্যের ভালো গুণগুলো ক্রেতার সামনে বেশ চমক ও আকর্ষণীয়তার সাথে তুলে ধরবেন। এতে ক্রেতার পণ্যটি কেনার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাবে এবং তিনি সেটি কিনবেন।  

৬) ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যস্থতা

এই পর্যায়ে ক্রেতার প্রতিটি জিজ্ঞাসার উত্তর শান্তভাবে দিন। তাদের যে আপত্তিগুলো আছে সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন, এবং সম্ভব হলে সমাধান করার চেষ্টা করুন। মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রাইস নেগোসিয়েশন বা দাম কষাকষির ব্যাপারে অনেক সতর্কতা ও বিচক্ষণতা বজায় রাখুন। এমন ভাবে দামাদামি করুন যাতে ক্রেতার মন খারাপ না হয়। বা তিনি যাতে রেগে না যান। এক্ষেত্রে আপনি ক্রেতাকে পণ্যটি প্রস্তুতির আগের কাঁচামাল সোর্সিং, উৎপাদন, বিপনন খরচ ইত্যাদির একটা সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া যেতে পারে।

৭) কাস্টমার রিভিউ তুলে ধরা 

আপনার পণ্যগুলো কিনে যারা যারা উপকৃত হয়েছে তাদের কিছু রিভিউ আপনার ফোনে ভিডিও আকারে রাখুন বা তাদের কিছু মেসেজ ফোনে রাখুন এবং পণ্য বিক্রির সময় সেগুলো কাস্টমারদের কাছে তুলে ধরুন। এতে তাদের আরও আগ্রহ বাড়বে। 

৮) সেলস 

এবার সময় হলো কাঙ্ক্ষিত পণ্যটির বিক্রয় সম্পন্ন করার। আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে অনেক চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়ে এই ধাপে আসা সম্ভব হয়েছে। তাই ছোট কোন ভুলে অবস্থান থেকে কোনভাবেই ছিটকে পরা যাবে না। আর এজন্য ক্রেতা প্রয়োজন মনে না করলেও একসাথে অনেক বেশি পণ্য বিক্রির জন্য অহেতুক জোরাজুরি করবেন না। কারন একজন নতুন ক্রেতার কাছে প্রথম সেলস অধিক মুনাফার চেয়ে সম্পর্ক তৈরির সূচনা হিসেবে বেশি কাজ করে।

৯) বিক্রয়োত্তর কাজ

পণ্যটি বিক্রি করে দিয়েছেন মানেই সব কার্যক্রম শেষ না। বরং আসল কাজ শুরু হবে এখন থেকেই। একটি কাস্টমার বা ক্লায়েন্ট তৈরি করা যেমন কঠিন,তেমনি আর এটা ধরে রাখা আরও অনেক বেশি কঠিন। আপনার পণ্যের মান, মূল্য, সেবার যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা চলমান ভাবে রক্ষা করার জন্য আপনাকেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।আর ক্রেতা – বিক্রেতার মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করতে হবে যা বিজনেসকে এগিয়ে নেবে।

সুতরাং আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হোন তবে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এই ধাপ গুলো অবশ্যই অনুসরণ করার চেষ্টা করবেন। একটি ধাপও বাদ দিবেন না। আর ধাপগুলো অনুসরণ করলে অবশ্যই আপনার সেলস বাড়বে। আর যত সেলস হবে ব্যবসা ও তত বাড়বে।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply