Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

“মানুষ উদ্যোক্তা হয়েই জন্মায়”- ড. মুহম্মদ ইউনূস

More Share, More Care!

“মানুষ উদ্যোক্তা হয়েই জন্মায়”- ড. মুহম্মদ ইউনূস

২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২রা মার্চ ভারতের কোকরাঝারে (বোডোল্যান্ড স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক সদর দফতর) অনুষ্ঠিত বোডোল্যান্ড আন্তর্জাতিক জ্ঞান উত্সব ২০২৩- এ অংশগ্রহণ করার জন্য নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আসাম সফর করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন যে, সকল চাকরি প্রার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবর্তে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা উচিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময়, দরিদ্র পরিবারের কাছে তিনি বলেছিলেন যে নারীদের ক্ষমতায়ন করে তাদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তোলাই সমাজের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি এবং যে কোনও সরকারের ফোকাস হওয়া উচিত উদ্যোক্তা তৈরি করা, চাকরি সন্ধানকারী নয়।

প্রফেসর ইউনূস এটাও বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগ নারীদের উদ্যোক্তায় পরিণত করে দেশে পরিবর্তন আনতে পারে।

নারী ঋণগ্রহীতাদের জামানত ছাড়া ঋণ, ঋণগ্রহীতাদের শেয়ার প্রদান (যার মধ্যে ৯৭% নারী) সহ অনেক ব্যতিক্রমী এবং সাহসী উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশে খ্যাতি এনে দিয়েছে। “যদি ১০ লাখ নারী (গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা) উদ্যোক্তা হতে পারে। তাহলে আমরা সহজেই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, কেউ একজন উদ্যোক্তা হতে পারে। আমরা শুধু মানুষকে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেই না, বরং আমরা তাদের চাকরি প্রার্থী হওয়ার জন্য চাপ দিই। 

বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের সহায়তায় বোডোল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত, প্রথম জ্ঞান উৎসবে বিটিসি-র প্রধান প্রমোদ বোরো, আসাম আইনসভা স্পিকার বিসওয়াজিত দাইমারি, রাজ্যমন্ত্রী ইউজি ব্রহ্মা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরদের সাথেও শিক্ষা নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। প্রফেসর ইউনূসের একটি বিশেষ অধিবেশনে দশটি আসাম্বেসডর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে শিক্ষার বিষয়ে চিন্তাভাবনার নিবিড় বিনিময়ও ছিল ওই অনুষ্ঠানে।

উৎসবটিতে ২০৩০ এর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে এর খাতগুলো যেমন বিটিআর, অন্তর্ভুক্ত বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি, আদিবাসী জ্ঞান ব্যবস্থা, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা, শান্তি-তৈরি এবং সুশাসন ইত্যাদির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ১৪ টি দেশের ৩৫ টিরও বেশি গ্লোবাল প্রতিনিধি এবং ৩০০ জন ভারতীয় প্রতিনিধি উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন। পরে অধ্যাপক ইউনুস বোডোল্যান্ড কলেজ, বোডোল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, রঙ্গিয়া কলেজ এবং গৌহাতি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য যে, বোডো জনগোষ্ঠীর জন্য একটি পৃথক বোডো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবীতে আসামের বোডোদের প্রায় ৩০ বছরের গুপ্ত ও সশস্ত্র সংগ্রামের পর ২০২০ সালে একটি শান্তি চুক্তির অধীনে বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিওন সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনে অনেকে জীবন বিসর্জন দেন। এই শান্তি চুক্তির অধীনে প্রমোদ বোরোর নেতৃত্বে স্বায়ত্বশাসিত বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিওন সৃষ্টি করা হয় যাঁর প্রধান নির্বাহী হিসেবে বোডো জনগোষ্ঠীর স্বায়ত্বশাসন নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল আয়োজিত এই “নলেজ ফেস্টিভাল” বৃহত্তর বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে ও বোডো জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দিক—নির্দেশনা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক সমাবেশ।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply