Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

সফল উদ্যোক্তাদের যে ৫টি বৈশিষ্ট্য আপনার অনুসরণ করা উচিৎ

More Share, More Care!

একটি ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই একজন উদ্যোক্তাকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার মত সামর্থ্য বা যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। নতুবা ব্যবসা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন? তাই আপনি যাতে খুব সহজেই সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন তার জন্য সফল উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী সম্পর্কে জানতে হবে।

আপনি যখন  এ সকল বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী জানতে পারলে অবশ্যই একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূলপন্থা জেনে নিতে পারবেন। কারণ একটি ব্যবসায় পরিচালনা শুধুমাত্র ক্রয় বিক্রয়ের ওপর নির্ভর করে না। একজন সফল উদ্যোক্তাই পারে একটি ব্যবসা সফলতা নিয়ে আসতে এবং মুনাফা বৃদ্ধি করতে। তাই চলুন জেনে নেই সফল উদ্যোক্তা হওয়ার মূল চাবিকাঠি।

উদ্যোক্তা কাকে বলে?/কাদের উদ্যোক্তা বলা হয়?

উদ্যোক্তা বিষয়টি খুব সাধারণ একটি বিষয়। আপনি যখন কোন কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেন এবং সেই কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পূর্ব থেকে একটি পরিকল্পনা তৈরি করাকে মূলত উদ্যোগ গ্রহণ বলা হয়। আর যখন কোন ব্যক্তি উদ্যোগ গ্রহণ করেন সাধারণত ঐ ব্যক্তিকে উদ্যোক্তা বলা হয়। তবে এর সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্য একটি সংজ্ঞা আমরা বের করেছি।

উদ্যোক্তা কি?

বর্তমান বিশ্বে উদ্যোক্তা বহুল আলোচিত। কারণ, এখন পৃথিবী এগোচ্ছে ব্যক্তির ক্ষুদ্র, মাঝারী, বৃহৎ উদ্যোগের মধ্যদিয়ে। সেখানে ব্যক্তি নিজের মেধা, মনন, দক্ষতা, পরিশ্রম এবং পূঁজির সমন্বয়ে নতুন কোনো চিন্তাকে ব্যবসায় প্রয়োগ করে প্রাতিষ্ঠানিকতা দিতে পারে। তেমনি এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ভোক্তার সেবা দিতে পারেন।

মূল কথায়, উদ্যোক্তা হল একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ। যেখানে অনিশ্চয়তা, নানামুখী চ্যালেঞ্জ থাকে। তবু এর বিকাশ, সংগঠিতকরণ এবং পরিচালনার ক্ষমতা ও প্রস্তুতি থাকতে হবে সামন্তরাল।একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন ব্যবসা শুরু করা।
মূলত, একজন উদ্যোক্তাকে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আবিষ্কার এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার সামর্থ্যের ওপর সংজ্ঞায়িত করা হয়। আর এই সামর্থ সর্বদা পরিবর্তিত এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে সফল হওয়ার জন্য একটি জাতির সক্ষমতার একটি অপরিহার্য অংশ।

উদ্যোক্তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যার একটি স্টার্টআপ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা এবং সফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটির অধিকারী ঝুঁকি, লাভ করার ক্ষমতা এবং ইচ্ছা রয়েছে। উদ্যোক্তাতার সর্বোত্তম উদাহরণ হল একটি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করা। উদ্যোক্তারা প্রায়শই নতুন ধারণা বা উদ্ভাবকদের উত্স হিসাবে পরিচিত এবং একটি নতুন উদ্ভাবনের সাথে পুরানোকে প্রতিস্থাপন করে বাজারে নতুন ধারণা নিয়ে আসে।

এটি বহুজাতিক কোম্পানির কাছে ছোট বা হোম ব্যবসায় শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে। অর্থনীতিতে, একজন উদ্যোক্তা যে মুনাফা করে তা হল জমি, প্রাকৃতিক সম্পদ, শ্রম এবং পুঁজির সমন্বয়ে।

সংক্ষেপে, যে কেউ একটি নতুন কোম্পানি শুরু করার ইচ্ছা এবং দৃঢ় সংকল্প এবং এর সাথে যে সমস্ত ঝুঁকি মোকাবেলা করে সে একজন উদ্যোক্তা হতে পারে।

একজন সফল উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুনাবলী 

আপনি যখন একটি ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তখন অবশ্যই আপনার মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী থাকতে হবে। কারণ আপনি যখন সফল উদ্যোক্তা হবেন তখন আপনার ব্যবসায়ের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায় সফলতা আসবে। নিম্নে কিছু সফল উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী উপস্থাপন করা হলো-

 

১. সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তি (Creative and Innovative)

একজন উদ্যোক্তার মধ্যে অবশ্যই সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী শক্তি থাকা প্রয়োজন। যখন কোন উদ্যোক্তা সৃজনশীল শক্তির অধিকারী হবেন তখন তার ব্যবসায়ের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। কারণ প্রাচীনকালের ব্যবসায়ের নিয়ম বা রীতি-নীতি বর্তমান সময়ের সাথে ব্যবসায়ের নিয়ম বা রীতি-নীতি কোন মিল নেই। কাল ক্রমে এর পরিবর্তন এসেছে। আর এই পরিবর্তন হয়েছে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে। কারণ একজন উদ্যোক্তাই পারে তার সৃজনশীল শক্তি ব্যবহার করে ব্যবসায়ের পদ্ধতি পরিবর্তন এনে ব্যবসায়ের সফলতা বৃদ্ধি করতে। এবং নতুন নতুন আইডিয়া তৈরি করার মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট দ্রুত এবং সঠিক সেবা পৌঁছে দিতে পারে। 

সুতরাং অবশ্যই সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তি থাকা প্রয়োজন।

 

২. ঝুঁকি গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Risk Taker and Decision Making)

ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য একজন উদ্যোক্তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঝুঁকি গ্রহণ। কারণ যেকোনো আকারের ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করার ফলে সেই ব্যবসায়ের ঝুঁকি আসবে এটাই স্বাভাবিক। আর যখন ব্যবসায়ের ঝুঁকি আসবে তখন বুদ্ধিমত্তার সাথে সেই ঝুঁকি সামলানোর ক্ষমতা নিজের মধ্যে রাখতে হবে।

ব্যবসায়ের ঝুঁকি আসলে কোনোভাবে মানসিকভাবে ভেঙ্গে না পড়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ব্যবসায়ীকে ঝুঁকি হতে উত্তোলন করতে হবে। তবে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি লাভের থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে সেই ধরনের ঝুঁকি হতে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঝুঁকি গ্রহণ করেও ব্যবসায়ের সফলতা আনতে হবে।

 

৩. আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা (Self-confidence and Inspiration)

যেকোনো কাজ করার পূর্বে অবশ্যই নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। কারণ আপনি যদি একজন আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তাহলে ওই কাজের সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে হবে এবং অনুপ্রেরণা দেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। 

ব্যবসায়ের খারাপ পরিস্থিতিতে কোনভাবে আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না এবং নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। এতে করে ব্যবসায়ের ছোট ছোট লক্ষ্য গুলো পূরণ হয় এবং সেই সাথে ব্যবসায় তার মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়। তাই অবশ্যই একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ব্যবসায় উদ্যোক্তাকে অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে হবে।

 

৪. অর্থ ব্যবস্থাপনা (Money Management)

যেকোনো কাজ করার জন্য অবশ্যই অর্থের প্রয়োজন, ঠিক তেমনি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য অর্থের প্রয়োজন। যাকে ব্যবসায়িক ভাষায় মূলধন বলা হয়। আপনি যখন ব্যবসায় পরিচালনা করবেন অবশ্যই আপনাকে ব্যবসায়ের মূলধন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তাই উদ্যোক্তাকে অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। এবং কোন খাতের কি পরিমান অর্থ সংস্থান করতে হবে সে সম্পর্কে পূর্বে থেকে পরিকল্পনা করে রাখতে হবে এবং সে অনুসারে অর্থ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

তাই নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার জন্য অবশ্যই অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

 

৫. নেটওয়ার্কিং দক্ষতা (Networking Skills)

নেটওয়ার্কিং দক্ষতা বিষয়টি একদম আধুনিক একটি বিষয় মনে হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়টি আদিম যুগ থেকে চলে আসছে। যদিওবা পূর্বে এনালগ সিস্টেমে নেটওয়ার্কিং করার মাধ্যমে পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি করা হতো কিন্তু এখন বর্তমানে ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি করা হয়। তাই অবশ্যই একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে নেটওয়ার্কিং দক্ষতা রাখতে হবে।

কারণ ভোক্তার চাহিদা, প্রয়োজন এবং উপযোগ অনুসারে ব্যবসায়ের পণ্য বা সেবা প্রদান করা হয়। আর এই সকল বিষয়ে জানার জন্য অবশ্যই নেটওয়ার্কিং মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। উদ্যোক্তাকে অবশ্যই  নেটওয়ার্কিং দক্ষতা থাকতে হবে।

এছাড়াও একজন উদ্যোক্তার মধ্যে যে সকল বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী থাকা প্রয়োজন সেগুলো হচ্ছে- দায়বদ্ধতা, কঠোর পরিশ্রমী, নমনীয়, স্বাধীন চেতা, আশাবাদী, সংকল্পবদ্ধ, কর্মী সংগঠন, স্ব-পরিচালিত, বোধগম্য বা বুঝার ক্ষমতা, ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার ক্ষমতা, নেতৃত্ব নেওয়ার সক্ষমতা, কার্যকর যোগাযোগকারী, সমালোচনার প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল, অধিক কাজ করার ক্ষমাতা, প্রয়োজন অনুমান করার ক্ষমতা ইত্যাদি।

FAQ

১. ব্যবসায় উদ্যোগ কাকে বলে?

উত্তরঃ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যখন কোন ব্যক্তি যে কোন পণ্য বা সেবা কেন্দ্রিক ব্যবসায় গঠন করার কথা চিন্তা করে বা ব্যবসা গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন সেই উদ্যোগ গ্রহণকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলা হয়।

২. ব্যবসায় উদ্যোক্তা কাকে বলা হয়?

উত্তরঃ যখন কোন ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবা ক্রয় এবং বিক্রয় করার মাধ্যমে ব্যবসা গঠন করে থাকে তখন তাকে ব্যবসায় উদ্যোক্তা বলা হয়।

৩. নারী উদ্যোক্তা কাকে বলে?

উত্তরঃ ব্যবসায়িক গঠন করার উদ্দেশ্যে এবং মুনাফা অর্জন করার উদ্দেশ্য নিয়ে যখন কোন নারী ব্যবসা গঠন করে এবং সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে তখন সেই নারীকে নারী উদ্যোক্তা বলা হয়।

৪. সফল উদ্যোক্তার বড় বৈশিষ্ট্য কি?

উত্তরঃ নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি দেয়ার জন্য অবশ্যই সফল উদ্যোগ তার সকল বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে এবং সেই সাথে সৃজনশীলতা ও ঝুঁকি গ্রহণ করার ক্ষমতা অবশ্যই থাকতে হবে। ব্যবসায় যত ক্ষুদ্র হোক বা বৃহত্তম হোক অবশ্যই ঝুকি গ্রহণ করার ক্ষমতা একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তার মধ্যে থাকতে হয়।

৫. উদ্যোক্তাকে ঝুঁকি গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকতে হয় কেন?

উত্তরঃ ব্যবসায় যেকোনো সময় ঝুঁকি আসতে পারে। সেটি হতে পারে প্রাকৃতিক কোন দুর্ঘটনা অথবা সেটি হতে পারে কৃত্রিম কোন দুর্ঘটনা। তাই অবশ্যই একজন উদ্যোক্তাকে যোগী গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখতে হয় যাতে করে ব্যবসায় বন্ধ না হয়ে ঝুঁকি অতিক্রম করে মুনাফা অর্জনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন। 

শেষ কথা

আপনি যাতে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করে নিতে পারেন, তার জন্য একজন সফল উদ্যোক্তার মধ্যে যে সকল বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী থাকা প্রয়োজন সেগুলো উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। কারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই উদ্যোক্তার মধ্যে এ সকল বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। যদি ব্যবসায় সংক্রান্ত আরো যেকোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আশা করছি আপনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে একজন সফল উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছেন।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply