Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

যে ৬ টি নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য একজন উদ্যোক্তার থাকা আবশ্যক

More Share, More Care!

উদ্যোক্তা কিন্তু সবাই হতে পারে না। এর কারণ একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতার প্রয়োজন হয়। যে দক্ষতা গুলো সবার মাঝে থাকে না বলেই সে উদ্যোক্তা হতে পারে না। এর মধ্যে নেতৃত্ব অন্যতম।  উদ্যোক্তা জীবনে সফল হতে গেলে বেশ কিছু নেতৃত্বের গুণাবলী ও দক্ষতা থাকা অতি আবশ্যক।

তবে হ্যাঁ, একজন উদ্যোক্তার মাঝে কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিকভাবেই থাকতে পারে। আবার কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চায় তবে কিছু বৈশিষ্ট্য তাকে অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হয়।

আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হতে চান তবে এই ৬ টি বৈশিষ্ট্য অবশ্যই থাকা প্রয়োজন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে যে ৬ টি নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য একজন উদ্যোক্তার থাকা উচিত।

১) সৃজনশীলতা (Creativity) 

সৃজনশীলতা মানে হলো নিজের মেধা ও বুদ্ধি খাটিয়ে নতুন কিছু তৈরী করা। ধরুন আপনার কাছে একটি ভাঙ্গা কাচের প্লেট আছে। এবার এই ভাঙ্গা কাঁচের প্লেটটাকে যদি আপনি জোড়া লাগিয়ে, বিভিন্ন রঙ দিয়ে পেইনটিং করে নতুন একটা রুপ দিতে পারেন, যেটা সবাই পছন্দ করবে এটাই হলো আপনার সৃজনশীলতা। এবং একজন উদ্যোক্তা ও একজন ব্যবসায়ীর মধ্যে এখানেই একটি বিশাল পার্থক্য আছে। 

কারন সাধারনত একজন উদ্যোক্তা সবসময় তার সৃজনশীলতাকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে,তিনি ইউনিক কিছু করতে চায়, আর একজন ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। কারন তিনি লাভজনক বিজনেস আইডিয়া খুজে ব্যবসা শুরু করে।

অন্যদিকে উদ্যোক্তারা গ্রাহকদের নতুন যে সমস্যা আছে সেগুলো খুঁজে বের করে, এবং তাদের  ব্যবসার মাধ্যমে সেগুলো সমাধান করার চেষ্টা করে।এবং তারা সফলও হয়। 

২) অনুপ্রেরণা (Inspiration)

এটা অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারন একজন উদ্যোক্তা সবসময় নিজেকে নিজেই অনুপ্রানিত করে রাখতে হবে। কারন অন্য কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ২-৩ দিন হয়ত ভালোভাবে দিন কাটানো যায় তবে সেটা স্থায়ী হয় না।নিজের ব্যবসা যেমনই যাক না কেন, নিজেকে নিজেই বলতে হবে “ভালো হবে, সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে, তোমাকে পারতেই হবে”।

তাছাড়া একজন উদ্যোক্তা হিসাবে যেমন নিজেকে অনুপ্রানিত রাখতে হয় ঠিক তেমনি ভাবে নিজের কর্মীদেরকেও অনুপ্রানিত রাখার দায়িত্ব একজন উদ্যোক্তাকেই নিতে হবে। তাছাড়া নিজেকে সব কিছুতে সক্রিয় রেখে অন্যকে অনুপ্রেরনা দেওয়া কিন্তু মোটেই সহজ কাজ নয়।

অনুপ্রেরণার যে বীজ রয়েছে সেটি অবশ্যই নিজের মধ্যে রোপন করতে চাইলে কর্মক্ষেত্রে যে ছোট ছোট লক্ষ্য গুলো আছে সেগুলো আগে নির্ধারণ করতে হবে। আর যখন আপনি আপনার বড় লক্ষ্যটি বাস্তবায়ন করার জন্য ছোট ছোট লক্ষ্যগুলোকে  ঠিক করতে পারবেন তখন আপনার বড় স্বপ্নটি বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

আর হ্যাঁ সব সময়ে নিজেকে এটা বলে অনুপ্রেরণা জোগাবেন, “You can do it. And yes one day you will succeed in your life”.

৩) জ্ঞান(Knowledge) 

একটা বিষয় জানিয়ে রাখি উদ্যোক্তা হতে চাইলে যে অনেক বেশী শিক্ষিত হতেই হবে তা কিন্তু নয়। মূল কথা হলো আপনি যেই ব্যবসাটি শুরু করতে চান সেই ব্যবসা সম্পর্কে যথেষ্ট কিছু জ্ঞান অর্জন করেই ব্যবসায় নামতে হবে। যেমন কেউ যদি খাবারের ব্যবসা করতে চান তাকে বাজার করাটা ভালো ভাবে রপ্ত করতে হবে পাশাপাশি হোম ডেলিভারি করলে রান্নাটাও ভালো জানতে হবে। 

আগের দিনগুলোতে এমন ছিল যে ব্যবসার মধ্যে  প্রতিযোগীতা অনেক কম ছিল। তখন মানুষজন ব্যবসায় নেমে বার বার হোঁচট খাওয়ার পরও ব্যবসাটি রপ্ত করার সুযোগ পেত।তবে ভাই, যুগ বদলেছে! সেই দিন কিন্তু এখন আর নেই, আপনি যদি সত্যিকার অর্থে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে জানান দিতে চান, তবে যেই ব্যবসাটি করতে চান তা নিয়ে আপনার যথেষ্ট জ্ঞান নিয়ে ও পরিকল্পনা করেই ব্যবসায় নামতে হবে।

আর তাই ব্যবসাটি শুরু করার পূর্বে বিজনেস প্লান, মার্কেট রিসাচ, প্রতিযোগিদের অবস্থান কেমন ইত্যাদি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে। এগুলোর উপর কিছুটা জ্ঞান তো থাকা লাগবেই। 

৪)আত্মবিশ্বাস(Confidence) 

আমার মতে একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে এই আত্মবিশ্বাসটাই সবচেয়ে বেশি দরকার। কারন এটা ছাড়া উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। কারন আপনার ব্যবসা দাঁড় করাতে হলে সেখানে আপনি একবার না কয়েকবার হোঁচট খাবেনই, ঠিক তখনই আত্মবিশ্বাসের জোড় না থাকায় অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ায়। আর তাই সকল উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করে যে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।

আপনি যদি একজন আত্মবিশ্বাসী হন তাহলে উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার জন্য থাকা চ্যালেঞ্জগুলিকে কাটিয়ে উঠতে আপনার তেমন অসুবিধা হবে না, আর এই আত্মবিশ্বাসের জোড়েই আপনি  ঝুঁকি নিতে পারবেন এবং আপনার অধ্যবসায়কে আরও সহজ করে তুলতে পারবেন। 

৫) ঝুঁকি গ্রহণ (Risk Taking)

এটি একজন উদ্যোক্তার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। উদ্যোক্তা হতে গেলে যেকোনো কাজে ঝুঁকি নিতে পারলে এর ফলাফল বেশ ভালই পাওয়া যায়।

তবে ঝুঁকি নেওয়া মানে এই না যে, আপনি  জেনে শুনে একেবারে পানিতে লাফ দিবেন। আমি বলছি, ঝুঁকি নেওয়ার আগে সেই ঝুঁকি থেকে কি পেতে পারেন এবং কি হারাতে পারেন সে নিয়ে ধারনা থাকা। 

তাই বলব, যদি দেখেন ঝুঁকি নিলে পাওয়ার থেকে হারানোর সম্ভাবনাই অনেক বেশি থাকে তবে সেক্ষেত্রে ঝুঁকি না নেওয়াই উত্তম। মোট কথা ভাবনা চিন্তা করে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ ফেলতে হবে। 

৬)অর্থ ব্যবস্থাপনা  (Money Management)

একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থা কেমন তা বুঝতে হবে।

এমনকি যদি আপনি আপনার বিজনেসে একজন অ্যাকাউন্ট্যান্টও নিয়োগ করে থাকেন তবুও টাকা পয়সার সকল হিসাব আপনাকে মিলিয়ে দেখতে হবে। কোথায় কত ব্যয় করবেন, লাভ কত টুকু হলো, কত খরচ করলে আরো একটু বেশী লাভবান হবেন এই বিষয় গুলো আপনাকেই চিন্তা করতে হবে। আর এটিই আপনাকে সফল করবে। 

সুতরাং এই ৬ টি বৈশিষ্ট্য যদি আপনার মাঝে থাকে কিংবা আপনি যদি এগুলো নিজের মধ্যে রপ্ত করতে পারেন তবে অবশ্যই আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হবেন। তাহলে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে এই গুণগুলো আজই নিজের মাঝে নিয়ে আসুন।


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply