Uddokta.com

উদ্যোগের আদ্যোপান্ত

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী উদ্যোক্তা

More Share, More Care!

বিলিওনিয়ার বা শতকোটি টাকার মালিক তো সবাই হতে চায়। আসলে বিশ্বের মধ্যে যারা বিলিওনিয়ার আছে তারা প্রত্যেকেই খুবই ক্ষমতাবান মানুষ। এর কারন হলো শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার কারনে পুরো পৃথিবীজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর তাঁদের যে শুধু বিপুল প্রভাব রয়েছে, তা-ই কিন্তু নয়, প্রতিনিয়তই তারা বড় ভূমিকা রাখেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে শুরু করে, সকল গণমাধ্যম, পরোপকার এবং এমনকি বৈজ্ঞানিক নানান আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের গড়ে তোলা কোম্পানি গুলোর মধ্যে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ। আর এসব বড় বড় কোম্পানিগুলো প্রায় সবাই চেনে। এগুলো হলো মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, টেসলা, গুগল ও নাইকি। আর ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধনীদের প্রায় সবাই হলো সেলফ-মেইড বা উদ্যোক্তা । অর্থাৎ এরা কারো অধীনে কোন কাজ বা চাকরি করে নয় বরং নিজের চেষ্টায় তারা নিজেদের বিপুল অর্থ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। 

এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ এর ভাগ পেলেও তা বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছেন নিজের প্রচেষ্টায়। আজ আমরা জানব বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী উদ্যোক্তা সম্পর্কে। কিভাবে তারা এত ধনী হলো? কে কি করছে, কার অর্থের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী এবং তাদের এই অঢেল সফলতার পেঁছনের কারণ কি? এ সব কিছুই জানব। তো চলুন শুরু করি। 

) ইলন মাস্ক

ছবি : Saul Martinez / Getty Images

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীদের মধ্যে ইলন মাস্ক আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। তিনি হলেন আমেরিকান একজন নাগরিক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ হাজার ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ইলন মাস্ক মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলা, রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স এবং সামাজিক মাধ্যম কোম্পানি টুইটারের (বর্তমান এক্স) প্রধান নির্বাহী। 

তিনি ২০০৪ সালের দিকে টেসলায় একজন বিনিয়োগকারী এবং চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। এবং পরে তাঁকে সহপ্রতিষ্ঠা পরিচয় দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এবং তার পর মাস্ক ২০০৮ সালের দিকে টেসলার প্রধান নির্বাহী হন। আর তার দুই বছর পর পরই তিনি বাজারে কোম্পানির শেয়ার ছাড়েন। আর ২০২০-২১ সালে কোম্পানির শেয়ারের দাম অনেক বাড়তে থাকে। এবং ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মাস্ককে পৃথিবীর শীর্ষ ধনী বলে আখ্যায়িত করা হয়। 

) বার্নার্ড আরনল্ট

  ছবি: Christophe Morin / Getty Images


বার্নার্ড আরনল্ট হলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে প্রথম স্থানে অবস্থান করা একজন উদ্যোক্তা। তিনি  এলভিএমএইচ (LVMH) নামের একটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যান। তিনি ফ্রান্স এর একজন নাগরিক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ হলো ২১ হাজার কোটি ডলার। তার প্রতিষ্ঠা করা এই কোম্পানি মূলত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিলাস পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। 

এই কোম্পানির রয়েছে ৭০টি ফ্যাশন প্রসাধন ব্র্যান্ড, যার মধ্যে রয়েছে লুই ভুইটন, ক্রিস্টিয়ান ডিওর, মোয়ে অ্যান্ড চ্যান্ডন ও সেফোরা। ২০২১ সালের দিকে বার্নাড এর এই কোম্পানি ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার দামে গয়না বানানোর কোম্পানি টিফানি অ্যান্ড কোম্পানিটিকেও কিনে নেয়।

৩) জেফ বেজোস

ছবি: Alex Wong / Getty Images

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন জেফ বেজোস। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৭৪০ কোটি ডলার। তিনি ২০২১ সালের জুলাইয়ে ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী হিসাবে সরে দাঁড়ালেও  এখনো তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যান। ২০২১ সালের জুলাই মাসেই তিনি ব্লু অরিজিন কোম্পানির বানানো একটি রকেটে করে মহাশূন্যে গিয়েছিলেন। আর সেই কোম্পানিটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শত শত কোটি ডলার খরচ করে। 

১৯৯৪ সালের দিকে তিনি ই-কমার্স প্লাটফর্ম অ্যামাজনডটকম প্রতিষ্ঠা করেন। 

আর প্রথম দিকে অ্যামাজনের শুরু হয় অনলাইনে বই বেচার মাধ্যমে। তখন অবশ্য খুব কম মানুষই অনলাইনে পণ্য কিনতেন। আর তার এই ই-কমার্সটি বেশি সচল ছিল না। এরপর তার অ্যামাজন ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবসায় ঢোকে। পরে সেখানে আসে সিনেমা এবং বিভিন্ন সিরিয়াল তৈরির ব্যবসা, যা দেখানো হয় অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-তে। ইনকাম ও বাড়ে। 

বেজোস ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বিল গেটসকে সরিয়ে পৃথিবীর শীর্ষ ধনীতে পরিনত হয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি আবার তিনি তৃতীয় স্থানে উঠে আসেন 

৪) ল্যারি এলিসন

ছবি: Justin Sullivan / Getty Images

সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকলের এর সহপ্রতিষ্ঠা হলেন ল্যারি এলিসন। ১৯৭৭ সালে  তিনি এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এটি পরিচালনা করেন। বর্তমানে তিনি ওরাকল এর  চেয়ারম্যান এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১১ হাজার ২৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এবং তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। 

৫) ওয়ারেন বাফেট

ছবি: Alex Wong / Getty Images

ওয়ারেন বাফেট বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে ‘ওরাকল অব ওমাহা’ বা ওমাহার একজন দৈববক্তা হিসেবে। ওয়ারেন বাফেট হলো ইতিহাসের অন্যতম সফল একজন বিনিয়োগকারী। তিনি বিনিয়োগ করেন কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে তে। আর এই কোম্পানির মালিকানায় আছে বেশ অনেকগুলো কোম্পানি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হলো ইনস্যুরেন্স কোম্পানি গেইকো, ব্যাটারি প্রস্তুতকারক ডিউরাসেল এবং রেস্তোরাঁ চেইন ডেইরি কুইন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার। 

ওয়ারেন বাফেট তার জীবনের প্রথম শেয়ারটি কেনেন ১১ বছর বয়সে, আর তিনি প্রথমবারের মতো কর প্রদান করেছিলেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে।

তিনি এখন পর্যন্ত গেটস ফাউন্ডেশন এবং তার নিজের সন্তানদের দাতব্যে বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে তে  ৫ হাজার ১৫০ কোটি ডলার দামের শেয়ার দান করে দিয়েছেন। আর তার এই দান তাঁকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে উদার শতকোটিপতির মর্যাদা প্রদান করেছে।

৬) বিল গেটস 

ছবি: Jack Taylor / Getty Images

আগে বিশ্বের সবচেয়ে শীর্ষ ধনীর নাম বললেই প্রথমে উঠে আসতো বিল গেটস্ এর নাম। তবে এখন সে জায়গা অন্য কেউ দখল করলেও তার আধিপত্য কিন্তু একটুও কমে নি। এখন তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার। সেই কিশোর বয়স থেকেই তিনি কম্পিউটার প্রোগাম নিয়ে মেতে উঠেছিলেন। এবং সেই নেশায় ১৯৭৫ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বাদ দিয়ে তিনি স্কুলের বন্ধু পল অ্যালেনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সফটওয়্যার মাইক্রোসফট। 

বিল গেটস দীর্ঘ ২৫ বছর মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪ সাল পর্যন্তও পালন করেন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। এরপর কোম্পানির পরিচালনা পদ থেকে তিনি সরে যান ২০২০ সালে। অবশ্য বর্তমানে তাঁর অনেক গুলো কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে, যার একটি রিপাবলিক সার্ভিসেস।

এ ছাড়াও আমেরিকায় যাঁদের হাতে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি আছে, তাদের মধ্যে তিনিও একজন।

৭) কার্লোস স্লিম হেলু

ছবি: Carlos Alvarez/Getty Images

কার্লোস স্লিম হেলু লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় মোবাইল টেলিফোন কোম্পানি ‘আমেরিকা মোভিল‘ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অবশ্য এখানে তার পরিবারের হাত ও আছে। বর্তমানে কমপক্ষে ১৫টি দেশে এই কোম্পানির কার্যক্রম বিদ্যমান আছে। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার।  

মোবাইল কোম্পানির বাইরেও তাঁর নির্মাণ, ভোগ্যপণ্য, খনিজ উত্তোলন এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মত বিভিন্ন কোম্পানিতে মালিকানা রয়েছে। তাছাড়াও  নিউইয়র্ক টাইমসের ১৭ শতাংশের মালিকানা তাঁর ছিল। 

২০১০-২০১৩ সালের সময় টুকুতে স্লিম বিল গেটস এবং ওয়ারেন বাফেটকে টপকে পৃথিবীর শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন অনেক মেধাবী। তিনি তার ব্যবসা শুরু করার আগে ছাত্রদের অ্যালজেবরা শেখাতেন। 

৮) মুকেশ আম্বানি 

ছবি: Forbes

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে মুকেশ আম্বানির পরিবারের  বিলাসবহুল জীবন এর আংশিক দৃশ্য সবাই দেখে থাকি। এতেই বুঝা যায় তিনি কত ধনী। মুকেশ আম্বানি হলেন ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। ১০ হাজার ৪০ কোটি ডলারের মত ব্যবসা করা এই কোম্পানিটি তিনিই চালান। তাঁর ব্যবসায় রয়েছে পেট্রোকেমিক্যাল, তেল ও গ্যাস, টেলিকম ও খুচরা পণ্য। বর্তমানে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম একজন ধনী উদ্যোক্তা হলেন মুকেশ আম্বানি। তার সম্পদের পরিমাণ হলো ৮ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার। 

১৯৬৬ সালের দিকে তিনি একজন ক্ষুদ্র বস্ত্রকলের মালিক হিসেবে সুতার ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ২০০২ সালে পিতার মৃত্যুর পর আমবানি এবং তাঁর ছোট ভাই অনিল তাদের পারিবারিক ব্যবসা ভাগ করে নেন।

 এক নাগারে প্রায় ১৪ বছর ধরে মুকেশ আমবানি ভারতের শীর্ষ ধনী ছিলেন। 

৯) স্টিভ বালমার 

ছবি: Steven Ferdman / Getty Images.

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে বিল গেটসের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়া বালমার মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। তিনি এমবিএ কোর্স থেকে ঝরে পড়ার পর ১৯৮০ সালের দিকে মাইক্রোসফটের ৩০ নম্বর কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

এরপর মাইক্রোসফট থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ২০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে লস অ্যাঞ্জেলেস নামের একটি টিম কিনে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৯০ কোটি ডলার। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। 

১০) ফ্রঁসোয়াজ বেটেনকোর্ট মায়ার্স

ছবি: AFP

ফ্রঁসোয়াজ বেটেনকোর্ট মায়ার্স পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী একজন নারী। তাঁর বাবা বিখ্যাত প্রসাধনী সামগ্রী প্রস্ততকারক কোম্পানি “লরিয়াল” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবং ফ্রঁসোয়াজ বেটেনকোর্ট মায়ার্স এবং তাঁর স্বপরিবার এই লরিয়ালের মোট শেয়ারের ৩৩ শতাংশের মালিক আছেন।

তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে লরিয়াল কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৭০ কোটি ডলার। তিনি একজন ফ্রান্স নাগরিক। বিশ্বের নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি সফল এবং ধনী নারী। 

 


More Share, More Care!

Leave a Reply Cancel reply